অধিনায়কের ব্যাটে স্বস্তিতে জিম্বাবুয়ে

আফগানিস্তানকে মাত্র ১৩১ রানে গুটিয়ে দিয়েও দারুণ অস্বস্তিতে ছিল জিম্বাবুয়ে। স্বাগতিকদের বোলিং তোপে ৩৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বেশ বিপদেই পড়ে সফরকারীরা। তবে আজ মঙ্গলবার প্রথমদিন শেষে অধিনায়ক শিন উইলিয়ামসের চতুর্থ ফিফটিতে ২ রানের লিড নিয়ে অনেকটাই স্বস্তিতে সফরকারীরা।

এর আগে আবু ধাবিতে শুরু হওয়া দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে মুখোমুখি উভয় দল। সকালে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। মুজারাবানির পেস তোপে এরপর মাত্র ৮ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় আসগর আফগানের দল। এরপর উইকেট শিকারে যোগ দেন আরেক পেসার ভিক্টর নায়ুচি।

মূলত এই দুই বোলারের আগুনে বোলিংয়ে একে একে উইকেট হারাতে থাকা জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ১৩১ রানেই। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান আসে অধিনায়ক আসগর আফগানের ব্যাট থেকে। এছাড়া ৩১ রান করেন ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান।

আর প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগণ্য ভূমিকায় ছিলেন জিম্বাবুইয়ান পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। ৪৮ রানের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন তিনি। কম জাননি ভিক্টর নায়ুচিও। তিনটি উইকেট গেছে মাত্র চতুর্থ টেস্ট খেলতে নামা ২৮ বছর বয়সী এই পেসারের ঝুলিতে।

স্বাগতিকদেরকে এই অল্প রানে আটকে দিয়েও স্বস্তিতে নেই সফরকারীরা। ব্যাট করতে নেমে তারাও উইকেট হারায় প্রথম ওভারেই। ইনিংসের চতুর্থ বলেই উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে তাদের দ্বিতীয় উইকেট হারায় ২২ রানেই। এরপর ১৪তম ওভারে এসে পরপর দুই বলে ওপেনার প্রিন্স মাসভাউরে (১৫) ও নতুন নামা ওয়েসলি মাধেভেরেকে (০) রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরের পথ দেখান আমির হামজা।

দলের বড় তারকা রশিদ খানের পরিবর্তে নিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে দ্রুতই তিনটি উইকেট নিজের করে নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। যাতে ৩৮ রানেই চতুর্থ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে রোডেশিয়ানরা। এমন বিপর্যয়ের মাঝে অভিজ্ঞ সিকন্দার রাজাকে সঙ্গী করে দলের হাল ধরেন দলীয় অধিনায়ক শিন উইলিয়ামস। ৭১ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করতে সচেষ্ট হন দুজন।

ফিফটি হাঁকানোর পথে শিন উইলিয়ামসের একটি কাভার ড্রাইভ, ছবি- ক্রিকইনফো।

তবে তাদের স্কোর একশ পেরোতেই জিম্বাবুয়ে শিবিরে ফের আঘাত হানেন আমির হামজা। রাজাকে প্রলুব্ধ করে ডিপ পয়েন্টে আব্দুল মালিকের হাতে ধরা দিতে বাধ্য করেন আফগানি এই বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার। ফলে ফিফটির আশা জাগিয়েও ৭ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন সিকান্দার। তার ৬২ বলেই এই লড়াকু ইনিংসে ছিল পাঁচটি চারের মার। আর এ নিয়ে এই ইনিংসে এখন পর্যন্ত একাই চারটি উইকেট শিকার করে নেন হামজা।

পরে রায়ান বার্লকে সঙ্গী করে আর কোনও ক্ষতি হতে না দিয়ে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি পূরণ করার পাশাপাশি দলকে ২ রানের লিডও এনে দেন জিম্বাবুয়ে ক্যাপ্টেন। অপরাজিত আছেন পাঁচ চারের সাহায্যে ৫৪ রানে। সঙ্গী বার্ল আছেন ৮ রান নিয়ে।