অবশেষে মুম্বাইকে হারাল দিল্লি

দিল্লি

আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে জয়খরা কাটালো দিল্লি ক্যাপিটালস। গত আসরে ফাইনালসহ চার ম্যাচ খেলে সবগুলোতে হেরেছিল তারা। এবার প্রথম দেখায় সেই হারের প্রতিশোধ নিলো দিল্লি। রোহিত শর্মার দলকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ঋষভ পান্তের দল। তাতে পয়েন্ট টেবিলের ২ নম্বরে উঠে এল দিল্লি।

চলতি আইপিএলে প্রথম ম্যাচ হারলেও পরের দুইটি ম্যাচ জিতে ছন্দে ফিরেছিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই। কিন্তু মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) তাদের বিজয়রথ থামিয়ে দিল গতবারের রানার্সআপ দিল্লি। 

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রানে থামে মুম্বাই। লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো করতে পারেনি দিল্লি। দলীয় ১১ রানে বিদায় নেন ওপেনার পৃথ্বী শ্বাহ। তবে জয়ের ভিত গড়ে দেন অপর ওপেনার শিখর ধাওয়ান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ধাওয়ান।

এই বাঁহাতি ওপেনার ৫ রানের জন্য এই আসরে তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ৪২ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ইনিংস সেরা ৪৫ রান করে রাহুল চাহারের শিকার হন। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে গত ম্যাচেও ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন ধাওয়ান। 

এছাড়া স্টিভেন স্মিথ ২৯ বলে করেন ৩৩ রান। ললিত যাদব ২৫ বলে ২২ ও শীমরন হেটমেয়ার ৯ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ ওভারের প্রথম বলে জাতীয় দলের সতীর্থ কিয়েরন পোলার্ডকে চার মেরে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান হেটমায়ার। পরের বলটি ছিল নো এবং সিঙ্গেলও নেন তিনি। ফলে ১৯.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানের লক্ষ্য পূর্ণ করে দিল্লি।

মুম্বাই বোলারদের মধ্যে যাদব, জসপ্রিত বুমরাহ, রাহুল চাহার ও কাইরন পোলার্ড একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরুটা ভালো হয়নি মুম্বাইর। তৃতীয় ওভারে ডি’কককে হারিয়ে চাপে পড়ে রোহিতরা। তবে সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে ৫৮ রান যোগ করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই সূর্যকুমারকে ফেরান আবেশ খান। ১৫ বলে চারটি বাউন্ডারিসহ ২৪ রান করেন সূর্যকুমার।

আরও পড়ুন…পাল্লেকেলেতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের

তবে এদিন এক ওভারে রোহিত এবং হার্দিক পান্ডিয়াকে তুলে নিয়ে দিল্লিকে ম্যাচে ফেরান অমিত মিশ্র। ৩০ বলে ৪৪ রান করে আউট হন মুম্বাই অধিনায়ক। আর রানের খাতা খোলার আগেই আউট হার্দিক পান্ডিয়া। পরের ওভারেই কাইরন পোলার্ড (২)কে ফিরিয়ে মুম্বাইয়ের স্কোর ৬ উইকেটে ৮৪ করে দেন দিল্লির এই লেগস্পিনার। তার শেষ শিকার ইশান কিষান (২৬)। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৩৭ রান তোলে মুম্বাই। 

দিল্লির পক্ষে অমিত ছাড়াও দারুণ বোলিং করেন আবেশ খান ও ললিত যাদব। আবেশ ২ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ২টি এবং ললিত ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে পান ১টি। আর চার ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন অমিত মিশ্র। তাতে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন তিনি।

চার ম্যাচে তৃতীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেলো দিল্লি। এক ম্যাচ কম খেলে সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। চার ম্যাচে দুই জয় ও দুই হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই।