অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ, হঠাৎ উত্তপ্ত জর্ডান

হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জর্ডান। কথিত অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অভিযোগে বেশ কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেখানে। বর্তমান বাদশা আবদুল্লাহ (দ্বিতীয়)’র সৎভাই ও সাবেক ক্রাউন প্রিন্স হামজা বিন হোসেন তার আইনজীবীর মাধ্যমে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি দেশের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অযোগ্যতা এবং হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন তাকে বাড়িতেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে। কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী তাকে গৃহবন্দি রাখার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাকে বলে দেয়া হয়েছে, যেসব কর্মকা- দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে, তেমন কর্মকা- তাকে বন্ধ রাখতে হবে।
সাবেক ক্রাউন প্রিন্স হামজা দেশের উপজাতি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গিয়েছিলেন সম্প্রতি। বলা হয়, সেখান থেকে তিনি সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছেন। এর ফলে সরকারের মধ্যে সন্দেহ প্রবেশ করেছে যে, তিনি বাদশা আবদুল্লাহকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছেন। প্রিন্স হামজার দাবি তিনি অন্যায় কিছু করেন নি। কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত নন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও আল জাজিরা।
এরই মধ্যে মিশর, সৌদি আরব সহ আঞ্চলিক অনেক শক্তি সমর্থন দিয়েছেন বাদশা আবদুল্লাহকে। সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। কারণ, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র জর্ডান। বাদশা আবদুল্লাহকে তারা একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আখ্যায়িত করে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিয়েছে। আল জাজিরা লিখেছে, জর্ডানের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকজন হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে অব্যাহত নিরাপত্তা বিষয়ক তদন্তের প্রয়োজনে। সতর্ক করে দেয়া হয়েছে সাবেক ক্রাউন প্রিন্স হামজা বিন হোসেনকে। যাদেরকে আটক করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেন একজন সাবেক মন্ত্রী ও রাজপরিবারের একজন সদস্য। শনিবার পেত্রা নিউজ এজেন্সিকে এ তথ্য দিয়েছেন একজন সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা।