Home বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তৈরি করা ইতিহাস প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে : মির্জা ফখরুল

আওয়ামীলীগ তৈরি করা ইতিহাস প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে : মির্জা ফখরুল

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ইতিহাসের সত্য না বলা অপরাধ। আওয়ামী লীগ তাদের নিজেদের তৈরি করা ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’

আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক প্রবাসী সরকারের ভূমিকা ও প্রস্তাবিত প্রজাতন্ত্র দিবস’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। 

যারা দীর্ঘকাল ধরে স্বাধীকার-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছেন তাদের কারো নাম ইতিহাসে উচ্চারণ হয় না উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এমনকি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমদ, জিয়াউর রহমানের নামও আজকে উচ্চারিত হয় না।’

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয় বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির শীর্ষ এই নেতা। তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল সমগ্র জাতির আত্মবিকাশের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে তিরোহিত করে।’

বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।

সভাপতির বক্তব্যে আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় রাজনীতির আমূল সংস্কার করে অংশীদারত্ব ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। এ লক্ষ্যে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুনির্দিষ্ট দার্শনিক ভিত্তি।’

আরও পড়ুন…করোনা নিয়ে রাজনীতি না করে জনগণের পাশে দাঁড়ান : ওবায়দুল কাদের

রব আরও বলেন, ‘২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার এবং গণহত্যা শুরুর মধ্য দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কবর রচিত হয়। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়। স্বাধীনতা অর্জনের সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে সুযোগ্য নেতৃত্ব না থাকলে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন চরম ঝুঁকিতে পড়ত। এসব গভীর সত্য উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হলে জাতির ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে না। স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা কোনো আদর্শিক সংগ্রাম কারো একক কৃতিত্বে সম্পন্ন হতে পারে না।’

আলোচনা সভায় আ স ম আব্দুর রব পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের উজ্জ্বল কীর্তির স্মারক হিসেবে ১০ এপ্রিল বা ১৭ এপ্রিলকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা করতে হবে। ঢাকায় প্রজাতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে ‘প্রজাতন্ত্র স্তম্ভ’ স্থাপন করতে হবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার- এ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘অংশীদারত্ব ভিত্তিক’ শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এবং পাঠ্যপুস্তকে প্রবাসী সরকার, মুজিব বাহিনীসহ অন্যান্যদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধে যার যা অবদান তাঁর স্বীকৃতি দিতে হবে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, সা কা ম আনিছুর রহমান খান, সিরাজ মিয়া, তানিয়া রব এবং প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।