আঘাত এসেছে, প্রতিঘাত করবই : হানিফ

যারা ধর্মের নামে অরাজকতা করে, তাদের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুব উল আলম হানিফ।

তিনি বলেছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আঘাত এসেছে, আমরা প্রতিঘাত করবই। দেশবিরোধী অপশক্তিকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিস ও থানায় ধ্বংসলীলার ক্ষয়ক্ষতি দেখা শেষে হানিফ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল ফারুক খান এমপি বলেন, যারা ইসলাম ইসলাম করে ইসলাম ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চায়, তাদের সবার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে; একই সঙ্গে এদের প্রতিহত করা হবে এখন থেকে।

পরিদর্শনের সময় আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি। এ সময় সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতে মানুষ ছোটাছুটি করে। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়। মানুষের ভিড় দেখে মারুফ সুলতানা ফুকরা বাজার থেকে চলে আসেন। পরে হেফাজতের এক আলেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা ও লাঠিসোটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও থানায় এই তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা তিন ঘণ্টাব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তাদের এই হামলা থেকে রক্ষা পায়নি উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছপালা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যও। এতে সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তাণ্ডবচলাকালে ইউএনও-এসিল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি সম্পর্ণ পুড়িয়ে দেয় তারা। এ ছাড়া সাংবাদিকের একটি মোটরসাইকেলসহ তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫৮৮ রাউন্ড শট গানের গুলি, ৩২ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল, ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছুড়ে। এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়, আহত হন অনেকে।

সালথায় সরকারি অফিস ও থানায় তাণ্ডবের ঘটনায় একটি মামলা করেছে পুলিশ। এতে ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও চার হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ মিজানুর রহমান এ মামলা করেন। এর মধ্যে বুধবার পর্যন্ত এজাহারভুক্ত আসামিসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।