আজ পবিত্র জুমাআতুল বিদা

আজ পবিত্র জুমাআতুল বিদা। আমাদের প্রতি আল্লাহপাকের অসীম অনুগ্রহ যে, তিনি আমাদের রমজানের মতো বরকতময় মাস দান করেছেন। এটা এমন একটি মাস, যে মাসে আল্লাহর করুণা অঝরে বর্ষিত হতে থাকে। আল্লাহর দয়া-অনুগ্রহ মানুষের ক্ষমা প্রত্যাশায় ব্যাকুল হয়ে ওঠে। বান্দার ক্ষমার জন্য উপলক্ষ্য খুঁজে ফেরে। এ মাসের ছোট ছোট আমলের প্রতিদানে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত, মাগফেরাত ও দোজখ থেকে মুক্তির অঙ্গীকার রয়েছে। আল্লাহপাক মেহেরবাণী করে আমাদের রমজান মাস দান করেছেন।

হাদিস শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী রমজান মাস হলো সব মাসের সেরা। আর শুক্রবার সপ্তাহের সেরা দিন। সুতরাং, রমজান মাসে যখন কোনো জুমাআ আসে, তখন এমনিতেই তা দ্বিগুণ মর্যাদার অধিকারী হয়ে ওঠে। একদিকে রমজানের মর্যাদা, অন্যদিকে জুমাআর মর্যাদা। এজন্য রমজানের প্রতিটি জুমাআ বছরের অন্য যে কোনো জুমাআর চাইতে বেশি মর্যাদাপূর্ণ। যদি আল্লাহ তায়ালা আমাদের হায়াতকে দীর্ঘায়িত করেন, তাহলে হয়তো আগামী বছর পুনরায় এই নেয়ামতপ্রাপ্ত হব। এজন্য যখন মহান নেয়ামত হাত থেকে চলে যাচ্ছে, তখন বিশেষভাবে তার কদর করা উচিত। তাই যত বেশি সম্ভব নেক আমলের মাধ্যমে এই জুমাআকে সাফল্যময় করে তোলা ইমানের দাবি।

মূলত জুমাআতুল বিদার এটাই মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। জুমাআতুল বিদার আরেকটি বিশেষ তাত্পর্য এই যে, রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হজরত দাউদ (আ.) জেরুজালেম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে গড়ে তোলেন মুসলমানদের সর্বপ্রথম কিবলা মসজিদে আল-আকছা। পবিত্র বায়তুল্লাহ শরিফ, অর্থাত্ কাবা শরিফ ও মসজিদে নববির পর তৃতীয় পবিত্র স্থান হচ্ছে মসজিদে আল-আকসা, যার অপর নাম বায়তুল মুকাদ্দাস।

প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার সারা বিশ্বের মুসলমানরা বায়তুল মুকাদ্দাসে ইহুদিদের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করেন। এবং ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের দখল থেকে পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে মুক্ত করার জন্য নতুনভাবে শপথ গ্রহণ করেন। তাই রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে ‘আল কুদস দিবস’ বলা হয়। মাহে রমজানে জুমাআতুল বিদার পূর্ণময় দিনে পরম আন্তরিকতাসহকারে আল্লাহপাকের কাছে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে রোজাদার মুসলমানেরা মসজিদে মসজিদে সমবেতভাবে মুক্তির জন্য ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেন। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে জুমাআতুল বিদার খায়ের ও বরকত হাসিল করার তাওফিক দান করুন। আমিন, সুম্মা আমিন।