আমদানি হচ্ছে সাড়ে ৩৩ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি

দেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ (প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থারমাল ইউনিট) তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। এতে ব্যয় হবে ২১৮ কোটি ৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এক্সেলারেট এনার্জি এলপি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এসব এলএনজি সরবরাহ করবে।

সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০ (২০১৮ সালের সর্বশেষ সংশোধনীসহ)-এর আওতায় মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টে (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে ১০ম এলএনজি কার্গো আমদানির লক্ষ‌্যে একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরবর্তী সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি থাকায় সরকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কক্সবাজারের মহেশখালীতে দৈনিক ৫০০ এমএমসিএফ ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য এক্সেলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড (ইইবিএল) জেস সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানির (পিভিটি) সঙ্গে চুক্তি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থাপিত দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার এলএনজি আমদানি শুরু করেছে। বর্তমানে কাতার গ্যাস জেস ওমান ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের (ওকিউটি) সঙ্গে দুটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এছাড়া, বছরের কোনো সময়ে গ্যাসের চাহিদা কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ গ্রহণ না করলেও মূল্য পরিশোধ করতে হয়। এ বিবেচনায় এলএনজি আমদানিকারক দেশগুলো প্রয়োজনের কম-বেশি ২৫ শতাংশ এলএনজি স্পট মার্কেট থেকে কিনে থাকে। এজন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে।

সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০ (২০১৮ সালের সর্বশেষ সংশোধনীসহ) এর আওতায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার লক্ষ্যে গত ০৮- ০৬-২০১৭ তারিখে জাতীয় পত্রিকাসহ সিপিটিইউ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএলের ওয়েবসাইটে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইআইও) প্রকাশ করা হয়। ৪৩টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করে। এ সংক্রান্ত কমিটি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাব মূল্যায়ন করে ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করে। পরে স্পেনের একটি প্রতিষ্ঠান তালিকা থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে। সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সঙ্গে এমএসপিএ স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরামর্শকের সহায়তায় প্রস্তুত করা খসড়া এমএসপিএ পিপিসি’র সভার অনুমোদনক্রমে অনুস্বাক্ষরের লক্ষ্যে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ২৯টি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠান এমএসপিএ অনুস্বাক্ষরের জন্য আহ্বান করলে ১৪টি প্রতিষ্ঠান স্বাক্ষর করে। পরে তার ওপর আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছে দর জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করা তিনটি প্রতিষ্ঠানের দর প্রস্তাব কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপন্সিভ হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের এওটি ট্রেডিং এজি, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সেলারেট এনার্জি এলপি এবং সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। 

সূত্র জানায়, আসন্ন সেচ মৌসুমে (মার্চ ও এপ্রিল, ২০২১) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি প্রয়োজন। এজন্য এপ্রিল মাসে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি আমদানির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকে তিনটি এলএনজি কার্গো আমদানি করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে দুটি কার্গো আমদানির জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়া গেছে। এ কার্গোটি গ্রহণ করা হলে দৈনিক ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ১০- ০৩-২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত পিপিসি’র সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এক্সেলারেট এনার্জি এলপি’র দাখিল করা সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব (৬.৫৩০০ মার্কিন ডলার/এমএমবিটিইউ) গ্রহণ করার সুপারিশ করেছে পিপিসি। 

সর্বনিম্ন দর প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত একক দর ৬.৫৩০০ মার্কিন ডলার/এমএমবিটিইউ বিবেচনায় ৫ শতাংশ অপারেশনাল টলারেন্সসহ ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮৬ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ৯৬০ টাকার (১ মার্কিন ডলার=৮৪.৯৫ টাকা) সমতুল্য (ভ্যাট/ট্যাক্স ব্যতীত)। এক্ষেত্রে, ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ ট্যাক্স বাবদ ৩১ কোটি ৬৮ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩ টাকাসহ মোট ২১৮ কোটি ৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয় হবে।