আমরাও দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত : মেয়র তাপস

‘এখন আমরাও দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে মৌলবাদীদের বাধা প্রদান ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। সেই মানববন্ধনে এই হুঁশিয়ারি দেন মেয়র।

কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল বাসেত মজুমদার। 

সংগঠনের সদস্য সচিব ও মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভাস্কর্য ভেঙে তারা মনে করেছে তারা বিজয়ী হয়েছে। যখনই সংবিধানবিরোধী কার্যক্রম হয়েছে, গণতন্ত্রকে আক্রমণ করেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত এসেছে, তখনই আমরা আইনজীবী অঙ্গন তার দাঁতভাঙা জবাব সব সময় দিয়েছি। এখনো আমরা প্রস্তুত তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে।

হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরীকে উদ্দেশ করে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ‘জনাব বাবুনগরী আপনারা ভুলে গেছেন। মনে করেছেন একটি ভাস্কর্য ভাঙলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নষ্ট হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এই বাংলাদেশে এখন শান্তির নীড় প্রতিষ্ঠা করেছি। এই করোনা মোকাবিলা করে জননেত্রী শেখ হসিনা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। আমরা শান্তিপ্রিয়। আমরা সুন্দরভাবে দেশকে এগিয়ে চলার জাতি গঠনে নিয়োজিত আছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আপনারা প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, জাতির পিতার চেতনায়, জাতির পিতার প্রতি আপনারা কটূক্তি করে, আপনারা মনে করছেন আবার জঙ্গিবাদে দেশকে নিয়ে যাবেন। বাংলা ভাই সৃষ্টি করবেন, যুদ্ধাপরাধীদের আসন গ্রহণ করাবেন। সে সুযোগ আর বাংলার মাটিতে হতে আমরা দিব না।’

২০১৩ সালের ৫ মে’র কথা উল্লেখ করে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘জনাব বাবুনগরী আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সেই ৫ মে’র কথা। ভুলে গেছেন? মনে করেছিলেন শাপলা চত্বর দখল করলে বাংলাদেশ দখল হয়ে যাবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা যত দিন জীবিত আছি, এই বাংলাদেশকে কেউ দখল করতে পারবে না।’

ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘আপনারা নিবৃত্ত হবেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তির নীড়ে থাকবেন। আর না হলে আপনারা এক সময় যে স্লোগান দিয়েছিলেন, বাংলা হবে আফগান; আপনাদের সেই আফগানিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। 

বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, যারা এ অন্যায় অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনব। তাদের প্রত্যেককে বিচারের সম্মুখীন করব।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর, মোখলেসুর রহমান বাদল, বশির আহমেদ, মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী, নাহিদ সুলতানা যুথী, আজহারুল্লা ভূইয়া, সানজিদা খানম, শাহ মঞ্জুরুল হক, কে এম মাসুদ রুমি, মোজম্মেল হক রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।