ঈদুল আজহার আগে যত প্রস্তুতি দরকার

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। অতিমারির মাঝে এটা দ্বিতীয় কোরবানির ঈদ। অনিশ্চিত অস্থির সময়ে এবারও ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা উদযাপন করবে ঈদুল আজহা। ঈদ মানেই বাড়তি কাজ। ঈদের নামাজের পর পর পশু জবাই, মাংস বণ্টন, মজার সব রান্না করা, অতিথিদের আপ্যায়ন এবং সেই সাথে নিজেকেও সুন্দর-পরিপাটি রূপে উপস্থাপন করতে হয় সবার মাঝে। এতোকিছু সামলাতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলাটা অস্বাভাবিক নয়। কিছু প্রস্তুতি আগে নিয়ে রাখলে সহজেই ঝামেলাগুলো থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

অন্দরসজ্জা

পশু জবাই আর মাংস বণ্টন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ঈদ উৎসবে কিন্তু ঘরকে সুন্দর করে গোছাতে হবে। কারণ, অন্দরকে পরিপাটি করে সাজানোও উৎসবের অংশ। ঈদে উৎসবে ভালো চাদরটি বিছানায় বিছিয়ে দিয়ে ভালো পর্দাগুলো টাঙিয়ে দিন দরজা-জানালায়। যেন তাকালেই মন ভালো হয়ে যায়।

পশু জবাই ও মাংস বণ্টন

কোরবানির পশু কোথায় জবাই হবে, কে জবাই করবেন এই বিষয়গুলো আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখুন। জবাইয়ের পর কাটাকুটির জন্য লোক দরকার হলে ঠিক করে নিন। না হলে কিন্তু বিরাট সমস্যায় পড়তে হতে পারেন। মাংস বণ্টন কিভাবে করবেন সেটাও ভেবে রাখুন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

কোরবানির ঈদে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা দরকার। এসময় পশুর রক্ত ও বর্জ্য জমে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে। ছড়াতে পারে মারাত্মক সব রোগ-জীবাণুও। তাই এসব বর্জ্য পরিষ্কারের ব্যবস্থা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন।

ঈদের অন্যতম অংশ হলো রান্না। তাই রান্নার জন্য যেসব মসলাপাতি দরকার, তা আগে থেকে গুছিয়ে বা তৈরি করে রাখতে পারেন। মসলা গুঁড়া করা বা বেটে কিংবা ব্লেন্ড করে রাখতে পারেন। এতে রান্না অনেকটাই সহজ হবে।

কোরবানির ঈদে যেহেতু ভারী খাবার বেশি থাকে, তাই স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। অতিরিক্ত মাংস খেয়ে শরীরের জন্য ক্ষতি ডেকে আনবেন না। সময়মতো পরিমিত খাবার খাবেন। ঈদের কয়েকদিন সতেজ, সুন্দর ও সুস্থ থাকুন। বেখেয়ালি হবেন না, তাতে ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে যাবে।

বাঙালি মুসলমানদের ঈদ উৎসবে আত্মীয়-পরিজনের বাড়ি যাওয়ার রীতি রয়েছে। তবে কোভিড সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কারো বাড়িতে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তবে বাড়িতে অতিথি এলে তাদের আপ্যায়ন করতে ত্রুটি রাখবেন না। কিছু খাবার (সেমাই, ফিরনি, পায়েস, পুডিং) আগের দিনই তৈরি করে রাখতে পারেন। পরিাবশেনার পাত্রগুলোও ধুয়ে মুছে রাখতে পারেন।