উইঘুর উপর নির্যাতন: চীনের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের নির্যাতনের ঘটনায় চীনের কর্মকর্তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশ।

সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা এক সমন্বিত প্রয়াসের অংশ হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। খবর বিবিসির

নতুন এ নিষেধাজ্ঞায় চীনের চার ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করা এবং তাদের ভ্রমণের ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জিনজিয়াংয়ের পুলিশ প্রধানও রয়েছেন।

এর পরপরই চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১০ ব্যক্তি ও চারটি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ২০১৭ সাল থেকে জিনজিয়াংয়ে প্রায় ১০ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে চীন সরকার। প্রদেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং গণহত্যার মত অপরাধ সেখানে সংঘটিত হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, ‘শিক্ষা শিবির’ নামক ক্যাম্পে উইঘুরদের আটকে রেখে তাদের চীনা ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হচ্ছে। কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসার কথা বলা এবং তাদের সঠিক আচরণ পরিচালনার নিয়মগুলো কঠোরভাবে মনে রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনা করতে অথবা সেই ধর্ম পরিত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ অভ্যাসগুলোর অংশ হিসেবে চীন সরকার সাংঘর্ষিকভাবে জিনজিয়াংয়ের উইঘুর সংস্কৃতি ও জাতিগত সত্তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

তবে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সংখ্যালঘুদের ক্যাম্পে রেখে ‘বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হচ্ছে।

উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে চীনের আচরণকে গণহত্যা হিসেবে বিবেচনা করে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। 

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রসচিব ডমিনিক রাব বলেছেন, উইঘুরদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।