এক নজরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ড

ক্রিকেটীয় লড়াইয়ে নিউ জিল্যান্ডে বাংলাদেশ মানেই যেন অসহায় আত্মসমর্পণ। এবার কি ইতিহাস সৃষ্টির মতো কিছু করতে পারবে তারা? তিন ম্যাচ ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে প্রায় একমাস ধরে সেখানে ঘাঁটি গেড়েছে তামিম-মাহমুদউল্লাহরা। লক্ষ্য এমন কিছু করে দেখানোর, যা আগে কোনও বাংলাদেশি দল করতে পারেনি। হতাশার চাদর সরিয়ে এবার সাফল্যের সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়ার সংকল্প। শনিবার (২০ মার্চ) শুরু হচ্ছে অসম্ভবকে সম্ভব করার মিশন। তবে এবারের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আগের চেয়ে একেবারে আলাদা। এই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ। একটু চোখ বুলানো যাক কিউই ও টাইগারদের ওয়ানডে ইতিহাসের খণ্ড খণ্ড কিছু রেকর্ডে:

বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস প্রায় ৩১ বছরের। ১৯৯০ সালের এপ্রিলে অস্ট্রেল-এশিয়া কাপ খেলতে শারজায় মুখোমুখি হয়েছিল জন রাইটের দলের মুখোমুখি হয়েছিল গাজী আশরাফের দল। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বয়স তখন কেবল চার বছর। পরিপক্ব নিউ জিল্যান্ড তাদের উড়িয়ে দিলো ১৬১ রানের বিশাল জয়ে।

ওয়ানডেতে দুই দলের পরের দেখা এরপর পাক্কা ৯ বছরেরও বেশি সময় পর। বাংলাদেশ তাদের অভিষেক বিশ্বকাপ ম্যাচেও পাত্তা পায়নি নিউ জিল্যান্ডের কাছে, হারে ৬ উইকেটে। ২০০২ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও পরের বছরের বিশ্বকাপেও দেখা হয় তাদের। তাতে একক আধিপত্য দেখায় ব্ল্যাক ক্যাপরা। ২০০৪ সালের নভেম্বরে প্রথমবার দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে, তাতে বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পায়।

তারপর থেকে প্রায় সময়ই দুই দল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছে। ২০০৭ সালে প্রথমবার নিউ জিল্যান্ড সফর করে বাংলাদেশ। সফরকারী দলকে গুঁড়িয়ে দিয়ে হোয়াইটওয়াশ করে ড্যানিয়েল ভেট্টরিরা। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ সহ মোট চারটি সফরে ১৩টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে। হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি কখনও। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ডানেডিনে স্বাগতিকদের সামনে দাঁড়ায় বাংলাদেশ এবং হেরে যায় ৮৮ রানে।

নিজেদের মধ্যে শেষবার লড়াই হয়েছে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে দ্য ওভালে নিউ জিল্যান্ডকে পায়। সত্যিকারের লড়াই হয়েছিল ওই ম্যাচেই। ২৪৫ রানের টার্গেট দিয়ে ২৩৮ রানের মধ্যে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। কিন্তু রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে শেষ হাসি হাসে নিউ জিল্যান্ড ২ উইকেটে জিতে।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেট মাঠে দেখা ৩৫ ম্যাচ। যেখানে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। মাত্র ১০টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, মানে ২৮.৫৭ শতাংশ। প্রথমবার নিউ জিল্যান্ডকে তারা হারানোর স্বাদ পায় ২০০৮ সালে ঢাকায়। মাশরাফি মুর্তজা ও আব্দুর রাজ্জাকের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২০১ রানে থামে সফরকারীরা, জুনায়েদ সিদ্দিকীর ৮৫ রানের সৌজন্যে ৭ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ। ২০১০ সালে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৪-০ তে জেতে তারা। তিন বছর পর তো প্রথমবার কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করে ছেড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বাকি দুটি জয় এসেছে প্রায় চার বছর হয়ে গেলো। ২০১৭ সালে ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজে কিউইদের হারায় তারা, একই বছর কার্ডিফে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সবশেষ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

এক নজরে নিউ জিল্যান্ড-বাংলাদেশের ওয়ানডে পরিসংখ্যান

ম্যাচ জয়: নিউ জিল্যান্ড- ২৫, বাংলাদেশ- ১০

ব্যাটিং রেকর্ড (নিউ জিল্যান্ড ও বাংলাদেশের সেরা)

দলীয় সর্বোচ্চ: নিউ জিল্যান্ড- ৩৪১/৭ (ক্রাইস্টচার্চ, ২০১৬), বাংলাদেশ- ৩০৯/৬ (ফতুল্লা, ২০১৩)

দলীয় সর্বনিম্ন: নিউ জিল্যান্ড- ১৬২, (ঢাকা, ২০১৩), বাংলাদেশ- ৭৭ (কলম্বো, ২০০২)

সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়: নিউ জিল্যান্ড- ১৬৭ (কলম্বো, ২০০২), বাংলাদেশ- ৪৩ (ঢাকা, ২০১৩)

সর্বোচ্চ রান: রস টেলর- ২৪ ম্যাচে ১০০৩, সাকিব আল হাসান- ২২ ম্যাচে ৬৩৯

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস: টম ল্যাথাম- ১৩৭ (ক্রাইস্টচার্চ, ২০১৬), মাহমুদউল্লাহ- ১২৮* (হ্যামিল্টন, ২০১৫)

সর্বোচ্চ গড়: রস টেলর- ৫৯.০০, সাব্বির রহমান- ৩৪.৫০

সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট: জ্যাকব ওরাম- ১১৮.৪২, সাব্বির রহমান- ৮৮.৯১

সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি: মার্টিন গাপটিল- ৩, মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব- ২

সর্বোচ্চ ডাক: টিম সাউদি- ৫, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম- ৩

সর্বোচ্চ ছয়: রস টেলর- ২৪, মুশফিকুর রহিম- ১০

এক সিরিজে সর্বোচ্চ রান: মার্টিন গাপটিল- ২৬৪, সাকিব আল হাসান- ২১৩

বোলিং রেকর্ড (নিউ জিল্যান্ড ও বাংলাদেশের সেরা)

সর্বোচ্চ উইকেট: সাকিব আল হাসান- ৩৭, কাইল মিলস- ৩৩

সেরা বোলিং: রুবেল হোসেন- ৬/২৬ (ঢাকা, ২০১৩), টিম সাউদি- ৬/৬৫ (ডানেডিন, ২০১৯)

এক ইনিংসে সর্বাধিক ৪ উইকেট: সাকিব আল হাসান- ৩, জিমি নিশাম- ২

এক সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট: সাকিব আল হাসান- ১১, কাইল মিলস- ৯

উইকেটকিপিং রেকর্ড (নিউ জিল্যান্ড ও বাংলাদেশের সেরা)

সর্বোচ্চ ডিসমিসাল: ব্রেন্ডন ম্যাককালাম- ৩৬, মুশফিকুর রহিম- ২০

এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসাল: বিজে ওয়াটলিং- ৭, ইমরুল কায়েস- ৫

ফিল্ডিং রেকর্ড (নিউ জিল্যান্ড ও বাংলাদেশের সেরা)

সর্বোচ্চ ক্যাচ: মাহমুদউল্লাহ- ১০, রস টেলর-৯

এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ক্যাচ: জুনায়েদ সিদ্দিকী- ৩, শেঠ র‌্যান্স- ৩

অন্যান্য

সর্বোচ্চ জুটি: সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ- ২২৪ (কার্ডিফ, ২০১৭), কেন উইলিয়ামসন ও নেইল ব্রুম- ১৭৯ (নেলসন, ২০১৬)

সর্বাধিক ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম- ২৬, রস টেলর- ২৪

অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক ম্যাচ: ড্যানিয়েল ভেট্টরি- ১৬, মাশরাফি মুর্তজা- ১১