Home বাংলাদেশ এখন আকাশ থেকে কুঁড়েঘর দেখা যায় না: তথ্যমন্ত্রী

এখন আকাশ থেকে কুঁড়েঘর দেখা যায় না: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এখন খালি পায়ে মানুষ দেখা যায় না, ছেঁড়া কাপড় পরা মানুষ দেখা যায় না, আকাশ থেকে কুঁড়েঘর দেখা যায় না। কেউ স্বীকার করুক আর না করুক এগুলো হচ্ছে বাস্তবতা।

আজ মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘৫০ বছরে গণমাধ্যমের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ আজ বদলে গেছে। ১২ বছর আগে যে ছেলেটি বিদেশ গেছে সে এখন দেশে এলে তার গ্রাম চিনতে পারে না।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে আমি। এ আইন দ্বারা যাতে কোন সাংবাদিক হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট আছি। তবে বাংলাদেশে গণমাধ্যম যে পরিমাণ স্বাধীনতা ভোগ করে তা অনেক উন্নত দেশেও করে না। এই অবাধ স্বাধীনতার যেন অপপ্রয়োগ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আমাদের দেশে অসত্য সংবাদ প্রচারের কারণে কোনও সংবাদপত্র বন্ধ হয়েছে এমন ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যে একটি ভুল সংবাদ পরিবেশিত হওয়ার কারণে ১৬৭ বছরের পুরনো পত্রিকা ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশে অসত্য সংবাদ পরিবেশিত হলে জরিমানা গুনতে হয়। আমাদের দেশে ভুল সংবাদ প্রকাশের জন্য পত্রিকা বা টেলিভিশন বন্ধ হয়েছে এমন ঘটনা ঘটেনি।

৫০ বছরে গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ হয়েছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, আমি ৫০ বছরের খতিয়ান দেবো না। আমি গত ১২ বছরের খতিয়ান দিতে চাই। আগে বাংলাদেশে টেলিভিশন ছিল মাত্র ১০টি। বর্তমানে অন-এয়ারে আছে ৩৪টি এবং আরও অন-এয়ারে আসার অপেক্ষায় আছে ১১টি। দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল ৪৫০, এখন ১২৫০। আমরা কয়েকশ অনলাইন গণমাধ্যমের অনুমোদন দিয়েছি। আরও অনুমোদন দিবো। তবে গণমাধ্যম বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে চ্যালেঞ্জও বেড়ে গেছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে উপমহাদেশে কোনও সাংবাদিকদের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান কোথাও দেওয়া হয়নি। আমাদের দেশে করোনাকালে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে এককালীন ১০ হাজার টাকা করে ইতোমধ্যে তিন হাজার সাংবাদিককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আরও এক হাজারের চেয়ে কিছুটা বেশি আমরা দিতে পারবো।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে কোনও গণমাধ্যমকর্মী যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে আরো নজর দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ আইনের ফলে কোনও গণমাধ্যমকর্মী যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে আরো নজর দেয়া হবে। এ আইন সবার জন্য। এটা কোনও গোষ্ঠীর জন্য নয়। এই আইন একজন লেখক, গৃহিণী, কৃষক, চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ সবার ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে আমি। এ আইন দ্বারা যাতে কোন সাংবাদিক হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট আছি। এখানেও জামিন হয়। আমি নিজেই অনেকের জামিনের চেষ্টা করেছি। এখানে আরও কী করা যায় সেটি আলোচনার বিষয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানি, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ।