করোনার টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সরকারপ্রধান টিকা নেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাসে নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকার কার্যক্রম উদ্বোধনের প্রায় এক মাস পর টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা।

করোনাভাইরাস মহামারির ইতি টানার লক্ষ্যে গত ২৭ জানুয়ারি নগরীর একটি হাসপাতালে কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে পাঁচজনকে টিকা দেওয়া হয়। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর কয়েকদিন বিরতি দিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে করোনার গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।

শুরুতেই কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকে নেননি এ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ বারবার প্রশ্ন তুলেছে। উদ্বোধনের দিন তার জবাবও দেন সরকারপ্রধান। তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের এখানে এমন কিছু মানুষ আছে, যারা সমস্ত কিছুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দেখান। যদিও সাধারণ মানুষ তাদের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পান না, তারা যেকোনো কাজ নিয়ে বিরূপভাবে সমালোচনা করেন এবং এ নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ, ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করেন। এটি তাদের অভ্যাস।’

এরপর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিনও টিকা গ্রহণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন বঙ্গবন্ধুকন্যা।  

সেদিন শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনার টিকা আমি অবশ্যই নেব। আগে আমার দেশের সব মানুষকে দেওয়া হোক। দেশের কতভাগ মানুষকে দিতে পারলাম, নিতে পারল, সেটা আগে দেখতে চাই। আমার একটি টিকা না নেওয়ার কারণে যদি আরও একটি প্রাণ বাঁচে, সেটা ভালো, তাই না?’

প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘আমার তো ৭৫ বছর বয়স। আজ আছি, কাল নাই। জীবন-মৃত্যুর তো বিশ্বাস নাই। যে কোনো সময় যে কেউ মারা যেতে পারি। আমাদের একটি নির্দিষ্ট টার্গেট আছে। ওই টার্গেটে পৌঁছানোর পর টিকা আমারটা আমি নেব। যদি টিকা সবাইকে দেওয়ার পর থাকে, তাহলে দেব।’