গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধরে রাখুন, মিয়ানমারকে জাতিসংঘ

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৬টি বিদেশি মিশন মিয়ানমারকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ‍আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেশটিতে সম্ভাব্য সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

খবরে বলা হয়, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস মিয়ানমারে সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের সব পক্ষকে যেকোনো ধরনের উসকানি ছড়ানো ও নেতৃত্ব প্রদর্শন বন্ধ করা, নির্বাচনের ফলাফলে শ্রদ্ধা জানানো এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে লেগে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত নভেম্বরে মিয়ানমারের ৪৯ বছরের সামরিক কর্তৃত্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সুচির জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ (এনএলডি) ভূমিধস জয় পায়। কিন্তু কয়েক সপ্তাহজুড়ে দেশেটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলছে। সেনাবাহিনী এক কোটি জাল ভোটের অভিযোগ তুলছে। তারা এর তদন্ত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটার তালিকা চেয়েছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র, মিয়ানমারে সাবেক উপনিবেশবাদী শক্তি যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আমরা শান্তিপূর্ণ সংসদ বসা এবং প্রেসিডেন্ট এবং স্পিকার নির্বাচন দেখার অপেক্ষা করছি। তারা নির্বাচনের ফল বাতিল করা বা মিয়ানমারের গণতন্ত্রের প্রতি আঘাতের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেন।

সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র রাজনৈতিক সংকট উল্লেখ করলেও সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিয়ে নেবে-এমন বিষয় নাকচ করে দিয়েছেন। তবে গত বুধবার মিয়ানমারে সেনাপ্রধান মিন আং লেইং সুনির্দিষ্ট অবস্থায় দেশের সংবিধান পরিবর্তন করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তির এমন মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশটির নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। নির্বাচন মুক্ত ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে বলে উল্লেখ করে কমিশন। নির্বাচন কমিশন ভোট জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে ভোটার তালিকায় কিছুটা ত্রুটি ছিল স্বীকার করে নির্বাচন কমিশন ২৮৭টি অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছে।

আল জাজিরার খবরে আরও বলা, প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে মিয়ানমার বিগত ১০ বছর ধরে সামরিক শাসনের বাইরে রয়েছে। সামরিক কর্তৃত্বপূর্ণ সংবিধানের মধ্যে দেশটিতে গণতন্ত্র কেবল শিশু অবস্থা থেকে বড় হচ্ছে। দেশটিতে সামরিক জেনারেলদের সঙ্গে সাধারণ প্রশাসনের ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি রয়েছে।

গত নভেম্বরের নির্বাচনে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো নির্বাচনে মিয়ানমারের নিপীড়িত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার সমালোচনা করেন। গণহত্যার মুখে ২০১৭ সালে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।