চকরিয়ায় পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ১০ হাজার পরিবার

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড়ি এলাকায় বসতি নির্মাণপূর্বক ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছে অন্তত ১০ হাজার পরিবার। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণে মাটি নরম হয়ে একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। এতে এসব পাহাড়ি এলাকায় যে কোনো সময় পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলেও দাবি করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার হারবাং মইস্যার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে রাবেয়া খাতুন (৫০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত রাবেয়া খাতুন পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের বকশির ঘোনা এলাকার ফিরোজ আহমদের স্ত্রী। তারা প্রায় একযুগ আগে পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী থেকে চকরিয়া উপজেলার হারবাং মইস্যার ঘোনা এলাকায় এসে স্বপরিবারে বসবাস করতেন। সচেতন মহলের অভিমত, সরকার এসব পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছন্যাকাটা, বানিয়ারছয়া, মাহমুদনগর, পাহাড়তলী, ভিলেজার পাড়া, হারবাং ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া, শান্তিনগর, মইস্যার ঘোনা, ফইজ্যার ডেবা, লম্বা ঘোনা, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলামনগর, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর, খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া, নয়াপাড়া, কাকারা ইউনিয়নের বার আউলিয়া নগর, শাহ ওমরনগর, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া, ছগিরশাহ কাটা, ছায়েরা খালী, ডুলাহাজারা ও বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় অন্তত ১০ হাজার পরিবার চরম ঝুঁকিতে বসবাস করছে। প্রায় দুইযুগ ধরে এসব পরিবার পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন বলে দাবি করেন জনপ্রতিনিধিরা।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‌‘চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে তিন হাজার ৩৪৫টি ও ফুলছড়ি রেঞ্জে তিন হাজার ৪৭১টি পরিবারসহ বন বিভাগের ছয়টি রেঞ্জে অন্তত ১২ হাজার পরিবার বসবাস করছে। তবে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত দুই হাজার পরিবার। পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে এসব পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে প্রশাসন উদ্যোগ নিলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

এদিকে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের চুনতি রেঞ্জের আওতাধীন হারবাং ও বরইতলী এলাকায় আরও এক হাজার পরিবারের তিন হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাহাড়ের ঢালুতে বসবাস করছে।

চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বেশির ভাগ লোক দরিদ্র শ্রেণির। এরা অভাব-অনটনে জর্জরিত হয়ে ও নদীভাঙনের শিকার হয়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘উপজেলার যেসব ইউনিয়নগুলোতে পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে মানুষ বসবাস করছে তাদেরকে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরেও যেসব এলাকা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তা শনাক্ত করে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।একইসঙ্গে যারা পাহাড় নিধন করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’