চারদিনের ম্যাচ শেষ চার সেশনেই!

চার দিনে ১২ সেশনের ম্যাচ। এক সেশনে ৩০ ওভার। এক দিনে ৯০ ওভারের খেলা। বড় দৈর্ঘ্যর ক্রিকেটের এ লড়াই কখনো কখনো ১২ সেশনেও শেষ হয় না। আবার কখনো শেষ হয় শেষ ঘণ্টায় কিংবা শেষ বলেও। কিন্তু চারদিনের ম্যাচ চার সেশনে শেষ হওয়ার রেকর্ড নেই বললেই চলে। বিকেএসপিতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে ঘটল এমন ঘটনা।

বিকেএসপিতে প্রথম দিন পড়েছিল ২১ উইকেট। দ্বিতীয় দিনও যে একই রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছিল বোঝা যাচ্ছিল। তেমনই হলো। মঙ্গলবার সকালের সেশনে গেল ৯ উইকেট। তাতে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় রাজশাহী বিভাগ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বরিশাল বিভাগ। ইনিংস হার এড়ানোর লড়াইয়ে তারা ৬০ রানে অল আউট। চার সেশনেই ম্যাচ নিজেদের করে নেয় রাজশাহী। এদিনও ৯ উইকেটের প্রত্যেকটি পেয়েছেন স্পিনাররা।

সব মিলিয়ে তিন ইনিংসের ৩০ উইকেটের ২৬টি স্পিনারদের দখলে। প্রথম ইনিংসে ৮০ রানে গুটিয়ে যাওয়া বরিশাল ৬০ রানের বেশি করতে পারেনি। রাজশাহী একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে করেছিল ১৫১ রান। ইনিংস ও ৯ রানে ম্যাচ জিতে নেয় তারা।

১১ রানে মইনুল ও ৮ রানে রাব্বী দিনের খেলা শুরু করেছিলেন। শুরু থেকে স্পিন আক্রমণে ভরসা রাজশাহীর। তারা ফলও পেয়ে যান দ্রুতই। সানজামুলের বলে রাব্বী স্লিপে জুনায়েদ সিদ্দীকের হাতে ক্যাচ দেন ১৪ রানে। এরপর মইনুল একই বোলারের বলে বোল্ড হয়ে ২৮ রানে ফেরেন সাজঘরে। বরিশালের অধিনায়ক ফজলে রাব্বী দলের দায়িত্ব নিতে পারেননি। ৩ রানে শেষ হয় তার ইনিংস। ৫৪ রানে তার বিদায়ের পর ১৬ রান যোগ করতেই অলআউট বরিশাল।

দলের চার ব্যাটসম্যান রানের খাতা খুলতে পারেননি। আরও চার ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। সানজামুল টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সাজঘরে ফেরালেও লেজটা কেটেছেন তাইজুল।

প্রথম ইনিংসে ৪টি করে উইকেট ভাগাভাগি করেছিলেন সানজামুল ও তাইজুল। দ্বিতীয় ইনিংসে সানজমুল পেয়েছেন ৬টি, তাইজুলের শিকার ৪টি। ম্যাচে ৮ উইকেট ও ব্যাটিংয়ে ৩৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলায় ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

বরিশাল প্রথম রাউন্ডেও ঢাকা মেট্রোর কাছে হেরেছিল। রাজশাহী প্রথম রাউন্ডে চট্টগ্রামের বিপক্ষে হারের পর এবার দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল।