চার বিয়ে করেও স্বামীহারা পরীমণি!

মাদক মামলায় গ্রেফতারকৃত চিত্রনায়িকা পরীমনির জীবনের নানা অধ্যায় উন্মোচিত হচ্ছে। র‌্যাবের তথ্যমতে, ঢাকার শোবিজ তারকাদের অনেকেই তার সহযোগী। চক্রের বেশ কয়েক জন মাদক ও অস্ত্র কারবারের সঙ্গেও জড়িয়েছেন। পিরোজপুরের মেয়ে শামসুন্নাহার স্মৃতি ঢাকায় এসে নায়িকা পরীমনি হয়ে ওঠেন। তার নানা শামসুল হক গাজী জানান, পরীমনি এ পর্যন্ত চারটি বিয়ে করেছেন।

প্রথম বিয়ে হয় বরিশালে থাকা খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে। সেখানে দুই বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছেদ হয়। পরীমনি গ্রেফতার হওয়ার পর তার দ্বিতীয় স্বামী কেশবপুরের ফুটবলার ফেরদৌস কবীর সৌরভ মুখ খুলেছেন মিডিয়ার সামনে। সৌরভ দাবি করেছেন, ২০১২ সালে বিয়ের পর পরীমনির কয়েকটি বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে এখনো তালাক হয়নি।

সৌরভ জানান, ২০১২ সালের ২৮ এপ্রিল পরীমনির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরীমনির সঙ্গে এখনো তালাক হয়নি। উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন পরীমনির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে এবং এক দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হবেন—এটা সব সময় মনে করতেন তার দ্বিতীয় স্বামী সৌরভ। তিনি জানান, পরীমনির সঙ্গে বিয়ের পর ফুটবল খেলতে তার ডাক পড়ে ঢাকায়। তখন স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার বনশ্রীতে বাসা ভাড়া নেন। পরীমনিকে মিরপুরের একটি কলেজে ভর্তি করেন। কলেজে পড়া অবস্থায় মিডিয়ায় জড়িত এক ব্যক্তির নজরে পড়েন পরী।

এরপর তাকে মডেল ও অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখান সেই ব্যক্তি। তখন থেকেই শামসুন্নাহার স্মৃতি নাম পালটে পরীমনি হয়ে যান। এর কিছু দিন না যেতেই পরীমনি উশৃঙ্খল জীবন যাপন শুরু করেন। ফলে স্বামীর সঙ্গে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। পরে মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত সেই ব্যক্তিকে পরীমনি বিয়ে করেছেন বলে সৌরভ জানতে পারেন। এরপর ২০১৫ সালে সৌরভ ঢাকা ছেড়ে কেশবপুরে ফিরে যান। স্বামীকে বিদায় করার পরই পরীমনি মাদকে জড়িয়ে পড়েন।

এর মধ্যে ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তের এক বিনোদন সাংবাদিককে বিয়ে করে সংসার পাতেন তিনি। পরের বছর ভালোবাসা দিবসে ভেঙে যায় সেই বিয়ে। ২০২০ সালে তিন টাকা কাবিনে পরীমনি বিয়ে করেন নির্মাতা কামরুজ্জামান রনিকে। একই বছর তাদের বিচ্ছেদ হয়।