চাল ও ধানের দাম খুব দ্রুত কমবে: কৃষিমন্ত্রী

খুব দ্রুত ধান ও চালের দাম কমে আসবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সচিবালয় থেকে ভার্চুয়ালি বোরো ধান কাটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘হাইব্রিডের উৎপাদনক্ষমতা বেশি হওয়ায় চলতি বছর ২ লাখ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত হাইব্রিড ধান লাগানো হয়েছে। এ বাবদ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে ৭৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো এক লাখ হেক্টর বেশি জমিতে হাইব্রিড বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। এর ফলে ৩ লাখ টন বেশি ধান উৎপাদন হবে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে চালের দাম স্থিতিশীল হলেও তা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। নানা কারণে এ দাম বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ছিলো কোনো মানুষ যেন করোনার কারণে না খেয়ে থাকে। ধান ও চালের দাম বাড়ায় শুরু থেকেই টার্গেট ছিলো বেশি উৎপাদনের। ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে ২ কোটি টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল। সে অনুযায়ী ফলন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী সরকার।’

বোরো ধান বাজারে এলে কী চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে- জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা এবার উৎপাদন বাড়ানোর যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, আমাদের যা সাধ্য ছিল করেছি। আমরা কোনো ত্রুটি করিনি। আমাদের মাঠের কর্মকর্তারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু আমাদের করার ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা জানি দেশে সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ। প্রতি বছর ২২ লাখ মুখ যোগ হচ্ছে, এদের অন্ন আমাদেরকে দিতে হয়। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের খাবার জোগান দিতে হচ্ছে। ডব্লিউএফপি বাংলাদেশ থেকে খাদ্য কিনেই রোহিঙ্গাদের দেয়, বাইরে থেকে আনা হয় না।’

‘এবার আমাদের আলুর উৎপাদন ভাল হয়েছে। গত বছর আমরা আলু রিলিফ হিসেবে দিয়েছিলাম, এবার আমরা রোহিঙ্গাদের রেশন হিসেবে আলু দেয়ার কথা বলেছি। গমও এবার ভাল হয়েছে। ভুট্টার ফলন আবার একটু কমে আসছে, মানুষ ধানে চলে গেছে, বাংলাদেশের মানুষ যখন যেটায় দাম পায় সেটায় ঝুঁকে।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ধান যদি আমরা ঘরে তুলতে পারি, যদি কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় ইনশাআল্লাহ ধান-চালের দাম ইতোমধ্যে স্থিতিশীল হয়েছে, এটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসবে। এটুকু আমি বলতে পারি।’