চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ : কৃষিমন্ত্রী

স্বাধীনতার ৫০ বছরে কৃষিতে বিপ্লব ঘটে গেছে। বিজয়ের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষিতেই জোর দিয়েছিলেন। তাঁরই দেখানো পথে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। জনসংখ্যা চাপ, কৃষিজমি হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। কৃষি গবেষণায়ও এগিয়েছে অনেক দূর। 

২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসনে শুধুই বঞ্চনার ইতিহাস। সবক্ষেত্রেই বৈষম্য, কৃষিও চরম অবহেলিত। শোষণ-বঞ্চনা-বৈষম্যের বিরুদ্ধে জাতির পিতার নির্দেশে বাঙালির লড়াই। 

স্বাধীনতার পর দেশ গঠনে কৃষিকেই প্রাধান্য দিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রথম বাজেটের ৭৮৬ কোটি টাকার ১০০ কোটি টাকাই বরাদ্দ কৃষিতে। জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার পর আবারও পিছিয়ে পড়া। সারের জন্য প্রাণ দিতে হয় কৃষককে। 

জাতির পিতার পথ ধরে তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে কৃষি খাত। ধান, গম ও ভুট্টা উৎপাদনে সাফল্য এসেছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান দশম। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন চতুর্থ অবস্থানে।

জিডিপি’তে কৃষির অবদান ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন ৪৩২ দশমিক এক লাখ মেট্রিক টন। ভুট্টা উৎপাদন বেড়েছে। সবজি উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার মেট্রিক টন। আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম।

বেড়েছে ফল উৎপাদন। আম উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারায় অষ্টম।

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে কমেছে সারের দাম। এখন চ্যালেঞ্জ কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে কৃষি ব্যবস্থা আধুনিকায়ন। 

কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, কৃষি ক্ষেত্রে অবশ্যই একটা দৃশ্যমান গর্ব-অহঙ্কার করার মতো সাফল্য এসেছে। বঙ্গবন্ধু ব্যাপকভাবে শ্যালো টিউবওয়েল বসানো শুরু করেছিলেন। যার কারণে এর উপকারিতা আজকে আমরা পাচ্ছি। বাংলাদেশের কৃষিতে আধুনিক উপকরণ সার, বীজ, পানি সেচের ব্যবস্থা, কীটনাশকের ব্যবস্থা- এগুলো আমরা করতে পেরেছি।

কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছ মাংসের উৎপাদনও বেড়েছে। 

কৃষিমন্ত্রী বলেন, হাঁস, মুরগী, মাছের চাষ এবং গবাদী পশু- এগুলোতে আমাদের আধুনিক পদ্ধতি আনতে হবে। মাছ-মাংস-ডিম এগুলোতেও বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।

কৃষিতে উন্নয়নের এ ধারা ধরে রাখতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণসহ পতিত জমি কৃষির আওতায় আনার পরিকল্পনার পাশাপাশি কৃষি গবেষণাতে নজর আছে সরকারের। 

কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, সব ক্ষেত্রে ড্রামাটিক একটা রেভুলেশনারী চেঞ্জ, যেটি বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন।