জঙ্গিদের হাতেই মুসলমানদের বেশি রক্ত ঝরেছে: আইজিপি

জঙ্গিদের হাতেই মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

পুলিশ প্রধান বলেছেন, জঙ্গিবাদ ইসলামের শত্রু। যারা জঙ্গিবাদে জড়িত তারাও ইসলামের শত্রু। জঙ্গিদের হাতেই মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে।

সোমবার রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, বাংলা ও ইংরেজিতে প্রচুর বই রয়েছে। তোমরা এসব ধর্মীয় বই মনোযোগ সহকারে পাঠ করলে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা নিতে পারবে।

যৌথ পরিবারের গুরুত্ব উল্লেখ করে বেনজীর আহমেদ বলেন, অর্থনৈতিক কারণে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে গেছে। যৌথ পরিবারে একটি শিশু দাদা-দাদি, নানা-নানিসহ পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের পরামর্শ পেত, তাদের সাহচর্য পেত। এতে শিশুদের নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি অনেক মজবুত হতো। কিন্তু বর্তমানে একক পরিবারে এ সুযোগ আর নেই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি আরও বলেন, আমার শিশু সন্তানকে দিয়ে আমি বুঝি যে সে কতটা নিঃসঙ্গ। এখন তো স্কুল, স্কুলের বন্ধু ছাড়া কেউ নেই। বর্তমানে ফ্যামিলি কাউন্সিলিংয়ের সুযোগ নেই; বরং প্যারেন্টাল কাউন্সিলিং দরকার।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠান আয়োজনে নিরাপত্তার বিষয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, কয়েকদিন পরই আমরা স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে পাঁচজন রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত থাকবেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ ভিভিআইপি মেহমানদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে। আপনারা সবাই আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন।

শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ মাহাবুবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জায়েদুল আলম, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কৃষ্ণপদ রায় ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মঈনুর রহমান চৌধুরী।

আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ব্যারিস্টার মাহাবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস ফাউন্ডেশন শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে প্রাথমিক স্কুল সার্টিফিকেট পিইসি বা সমমান শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে ৪৬ জনকে ৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট জেএসসি সমমান শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে ২৪ জনকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট এসএসসি সমমান ১০ হাজার টাকা করে ৫০ জনকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১০ হাজার টাকা করে ৪ জনকে উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে ৪০ হাজার টাকা দেয়া হয়। সব মিলিয়ে ১২৪ জন শিক্ষার্থীকে ১৩ লাখ ৬ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।