জনগণকে বিক্ষোভের আহ্বান সু চির

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সাং সু চি ও প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ট মিন্টসহ শীর্ষ নেতাদের আটক করে ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। জারি করা হয়েছে এক বছরের জরুরি অবস্থা। তবে এই অভ্যুত্থান ও আটকের ঘটনায় জনগণকে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন সু চি।

মিয়ানমারের ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি এনএলডি পার্টি সোমবার জানিয়েছে যে, তাদের নেতা অং সান সু চি জনগণকে এই সেনা অভ্যুত্থান মেনে না নিয়ে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে দলটি জানিয়েছে, ‘সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপ দেশকে আবারো স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেয়ার পদক্ষেপ।’

বিবৃতিতে এনএলডি নেতা অং সান সু চির নাম উল্লেখ করে বলা হয়, ‘আমি জনগণকে এটি মেনে না নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং আন্তরিকভাবে এই সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিবিসির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া সংবাদদাতা জনাথান হেড তার বিশ্লেষণে বলেছেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে তারা একটি অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে যা ১৯৬২ সালের পর বেসামরিক কোনো সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম। এটি সংবিধানেরও লঙ্ঘন। সবশেষ গত শনিবারই সংবিধান মেনে চলার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছিল সামরিক বাহিনী।

সরকার আর সামরিক বাহিনীর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণটিও বেশ পরিষ্কার। আর তা হচ্ছে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ইউএসডিপি পার্টি গত নভেম্বরের নির্বাচনে খুবই খারাপ ফল করেছে। অন্যদিকে এনএলডি ২০১৫ সালের নির্বাচনের তুলনায়ও আরো ভাল করেছে।

নির্বাচনের পর সোমবার পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন বসার কথা ছিল। এই অধিবেশনে পরবর্তী সরকারকে ক্ষমতা দিয়ে মূলত নির্বাচনের ফলকেই অনুমোদন দিতো। তবে অভ্যুত্থানের কারণে সেটিও আর হচ্ছে না।