জাহাজ এলেই উপরে উঠে যাবে রেলসেতু

ভারতের তামিলনাড়ুর রামনাথপুরম জেলার অন্তর্গত একটি শহর মণ্ডপমে পামবান রেলসেতু। রামেশ্বরমের পামবান দ্বীপের সঙ্গে দেশটির মূল ভুখণ্ডের যোগাযোগ আরো শক্তিশালী করতে এর পাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন এক সেতুর। কিন্তু এর জন্যে প্রকৌশলীদের প্রস্তুত করতে হয়েছে ভিন্ন এক নশকা।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯১৪ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি পামবান রেলসেতুর উদ্বোধন হয়েছিল। সমুদ্রের ওপর গড়ে ওঠা ভারতের প্রথম রেলসেতু ছিল এটি। ২০১০ সালে মুম্বইয়ে বান্দ্রা-ওরলি সেতু গড়ে ওঠার আগে পর্যন্ত এটিই ছিলো ভারতের দীর্ঘতম সেতু।

সমুদ্রের মাঝে জাহাজ পারাপারের জন্য এই সেতুর মাঝ বরাবর কিছুটা অংশ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। জাহাজ পারাপারের পর সেটি আবার জুড়ে গিয়ে রেল চলাচলের উপযোগী হত। ১৯৮৮ পর্যন্ত এটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে রামেশ্বরমকে সংযুক্ত রাখার একমাত্র পথ ছিল।

২০১৮ সাল থেকে মেরামতের কারণে সেতুটিতে রেল চলাচল বন্ধ থাকে। ২০১৯ সাল থেকে আবারো তাতে রেল চলাচল শুরু হয়। প্রথম সমুদ্র সেতু, প্রথম দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু- একাধিক রেকর্ড রয়েছে এই পামবান সেতুর ঝুলিতে। এবার আরও এক রেকর্ড গড়তে চলেছে পামবান।

উপরের দিকে উঠে যাওয়া ভারতের প্রথম সমুদ্রসেতু হতে চলেছে এটি। তবে এই সেতুর নাম এবং অবস্থান একই হলেও এতক্ষণ যে পামবান সেতুর কথা বলা হচ্ছিল, সেটি এবং এটি এক নয়। এটি আসলে পুরনো সেতুর পাশে গড়ে ওঠা নতুন একটি রেলসেতু। মণ্ডপম ও রামেশ্বরমের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলায় এটির নামও রাখা হয়েছে ‌পামবান রেলসেতু।

এর নির্মাণ কাজ শেষের পথে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২২ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই এটি দিয়ে রেল চলাচল করতে পারবে।

আনন্দবাজার জানায়, এই সেতু চালু হলে কোনোরকম বাধা ছাড়াই সেতুর নীচ দিয়ে জলযান চলাচল করতে পারবে। সেতুর মাঝে ৬৩ মিটার দীর্ঘ অংশ উল্লম্ব ভাবে ওঠানামা করতে সক্ষম। এর দু’পাশের অত্যাধুনিক সেন্সর লাগানো রয়েছে। ট্রেন আসার আগেই তা আঁচ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে আসবে সেতুর ওই ৬৩ মিটার দীর্ঘ অংশ। ট্রেন চলে গেলে পুনরায় তা উঠে যাবে।