টানা দ্বিতীয় দিন দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু আশির নিচে

টানা দ্বিতীয় দিন দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু আশির নিচে রইল। গত একদিনে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৭ জন। এর আগে গতকাল (তার আগের ২৪ ঘণ্টায়) ৭৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়, যা দুই সপ্তাহ পর একদিনে সবচেয়ে কম মৃত্যু। সবশেষ ১৩ এপ্রিল ৬৯ জন ও ১৪ এপ্রিল ৯৬ জনের মৃত্যু হয়। এরপর সে সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১১২ জনে গিয়ে ঠেকে। দেশে করোনায় মোট মৃত্যু ১১ হাজার ৩০৫ জনের।

এদিকে মৃত্যুর সংখ্যা কমার পাশাপাশি গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় শনাক্তের সংখ্যাও কম হয়ে তিন হাজারের নিচে রয়েছে।

বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজার ২০৬টি নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৯৫৫ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। এতে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৪ জনে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার কমে ১০.৪৮ শতাংশ। গতকাল ছিল ১২.৫১ শতাংশ হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন পাঁচ হাজার ৩৯২ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ ছয় লাখ ৭২ হাজার ৩১৯ জন।

এছাড়া, গত একদিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৩ জন ও নারী ৩৪ জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায় যায়, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ৫২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে আট জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুই জন মারা গেছেন।

বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ৪৬ জন, চট্টগ্রামে ৯ জন, রাজশাহীতে পাঁচ জন, খুলনায় সাত জন, বরিশালে পাঁচ জন, সিলেটে দুই জন, রংপুরে একজন এবং ময়মনসিংহে দুই জন মারা গেছেন।

শনাক্ত বিবেচনায় প্রতি ১০০ জনে সুস্থ হয়েছেন ৮৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ এবং মারা গেছেন এক দশমিক ৫০ শতাংশ।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মার্চ মাস থেকে তা শুধুই বাড়ছে। গত ১৬ এপ্রিল মৃত্যু একশো ছাড়ায়। সেদিন ও তার পরদিন ১৭ এপ্রিল ১০১ করে মৃত্যু হয় করোনায়। ১৮ এপ্রিল ১০২ জন ও ১৯ এপ্রিল ১১২ জন মারা যান, যা একদিনে সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞরা এটাকে বাংলাদেশে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন। করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় প্রথমে ২১ এপ্রিল ও পরে তা বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছিল সরকার। এরপর সেটি আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।