ট্রাম্পের অসহযোগিতায় বাধ্য হয়ে মাঠে নামলেন বাইডেন

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসহযোগিতার কারণে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কাজের প্রথাগত নিয়ম ভাঙতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ আগামী নয় সপ্তাহের মধ্যে বাইডেনকেই চলমান জনস্বাস্থ্যের হুমকি এবং জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে হবে।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে দেশের বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি গোয়েন্দাদের ব্রিফিং দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, বাইডেনের জন্য সেই পথ আটকে রেখেছেন ট্রাম্প। এ জন্য গত মঙ্গলবার গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন বাইডেন। খবর ইউএনবির।

এদিকে এ বিশেষজ্ঞদের কেউই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ায়, দেশের সংকট নিয়ে বাইডেনকে সর্বশেষ তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির সদস্য হিসেবে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং পেয়েছেন।

আক্রান্ত এবং মৃত্যুর দিকে থেকে মহামারি করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, এ সংকট মোকাবিলায় বাইডেন এবং তাঁর কোভিড-১৯ বিষয়ক জরুরি সহায়তা দলকে কাজ করতে বাধা দিচ্ছে দেশটির বর্তমান প্রশাসন। বাইডেনের প্রতিনিধিরা চলতি সপ্তাহে সরাসরি ওষুধ সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে কয়েক লাখ আমেরিকানকে কমপক্ষে দুটি কার্যকর ভ্যাকসিন শিগগিরই বিতরণ করা যায়।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিস্টেমস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বুধবার আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে।

সিএসএসই জানায়, দেশটিতে এ পর্যন্ত এক কোটি ১৫ লাখের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং দুই লাখ ৫০ হাজার ৪৮৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য পর্যায়ের মৃত্যুর তালিকার শীর্ষে রয়েছে নিউইয়র্ক। অন্যতম জনবহুল এ রাজ্যে ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এরপরই রয়েছে টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা এবং নিউজার্সি যেখানে প্রতি রাজ্যে গড়ে ১৬ হাজারের বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।