ডিএনসিসির বর্জ্য পোড়ালেই বিদ্যুৎ

বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। চীনের কোম্পানি ‘চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন’ (সিএমইসি) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।  প্রতিদিন ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে এই প্ল‌্যান্ট থেকে।   
এরআগে নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে বর্জ‌্য থেকে প্রতিদিন ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

সূত্র জানায়, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০০৮’ অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ু বিদ্যুতের ওপর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।  একইসঙ্গে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পও নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দেশে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০১৮)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় বিদ্যুৎ-কেন্দ্র তৈরির লক্ষ্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকার।  এরপর জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ কেনার জন্য প্রক্রিয়াকরণ কমিটি ও কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য পোড়ানো পদ্ধতি অনুসরণ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কঠিন বর্জ্য বিদ‌্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সম্মতি দেন। এরপরই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন‌্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন‌্য ২০১৯ সালের ২০  জুন আন্তঃমন্ত্রণালয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। ওই কমিটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দাখিল করা ১৭টি প্রস্তাব প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করে।  এরপর ৪ প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবসহ কাগজপত্র পরীক্ষা করে সুপারিশ করা হয়। 

সূত্র জানায়, সুপারিশপ্রাপ্ত ৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১টির বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির অভিজ্ঞতা নেই। বাকি ৩টির মধ্যে ‘চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন’ (সিএমইসি)-এর ট্যারিফ সর্বনিম্ন হওয়ায়, তাদের প্রস্তাব নেগোসিয়েশনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে  সুপারিশ পাঠায় বিদ‌্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এরপর দরপ্রস্তাব ক্যাপাসিটি ৩৬ মেগাওয়াটের পরিবর্তে ৪২.৫০ মেগাওয়াট নির্ধারণ করে ২৫ বছর মেয়াদে বিদ‌্যুৎ সরবরাহ করতে রাজি হয় সিএমইসি।

জানতে চাইলে বিদ‌্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সংক্রান্ত  ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আগামী বুধবার (১১ নভেম্বর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তোলা হতে পারে।’ ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও তিনি জানান।