ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসায় বিধিনিষেধ শিথিল করে বিপাকে পড়েছে ইউরোপের অনেক দেশ। হঠাৎ করে ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়ায় নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করছে ফ্রান্স, গ্রিস, স্পেন, নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশকে।

জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়চেভেলের এক খবরে বলা হয়েছে, ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের হুমকি মোকাবিলায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি ইউরোপের অনেক দেশ। ফলে সংক্রমণের হার আবার দ্রুত বেড়ে চলেছে। পর্তুগাল, স্পেন ও সাইপ্রাসের মতো দেশে পর্যটনের সুযোগ দেওয়ার পর সংক্রমণের হার দ্রুত বেড়ে গেছে। এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে আবার কিছু বিধিনিষেধ দিতে হচ্ছে। স্পেনের কয়েকটি প্রদেশ রাতে কারফিউ ও অন্যান্য বিধিনিয়ম আবার চালু করছে।

ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসেবে ব্রিটেন সংক্রমণের উচ্চ হার সত্ত্বেও আগামী সপ্তাহ থেকে করোনাসংক্রান্ত সব বিধিনিয়ম তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অবশ্য দেশবাসীর উদ্দেশে সাবধানতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মানিতে কিছু বিধিনিয়ম শিথিল করা হলেও বদ্ধ জায়গায় মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট বিশ্ব জুড়ে আগুন গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। যেসব দেশে করোনা টিকার সংকট আছে, সেখানে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে বিপজ্জনক। সোমবার তিনি ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সতর্ক করে এ কথা বলেন। করোনা ভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্ট প্রথম শনাক্ত হয় ভারতে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১০৪ দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসন্ন বলে এক দিন আগেই সতর্ক করেছিল ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)। কিন্তু ভারতে এরই মধ্যে হয়তো করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন এক বর্ষীয়ান পদার্থবিদ। হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহউপাচার্য ড. বিপিন শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ভারতে ৪ জুলাই থেকেই হয়তো শুরু হয়ে গেছে করোনার ‘থার্ড ওয়েভ’। পশ্চিমবঙ্গের এই সময় পত্রিকার খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যদিও ভারতে সংক্রমণের সংখ্যা কমেছে। গতকাল মঙ্গলবার আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৯০৬ জন। তবে হঠাত্ করে বেড়ে গেছে মৃত্যুর সংখ্যা। মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বুলেটিন অনুসারে, এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২০ জনের।