ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক ইউনিক, চীনের প্রভাব বৃদ্ধিতে চিন্তিত নয় ভারত

ঢাকা: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে ভারত-বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সফররত দিল্লির বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। একই সঙ্গে তিনি এ খাতের যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছেন।

ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের ঢাকা সফরের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল বুধবার ( ১৬ ডিসেম্বর) রাতে হোটেল সোনারগাঁয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ভারতীয় হাই কমিশন।

বাংলাদেশের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির কোন প্রস্তাব আছে কী-না? এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি রয়েছে।

ওই এলওসির আওতায় কিছু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সামনের দিনে আমরা দেখব, কিছু সমরাস্ত্র ভারত থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ হোক বা বিনিময় হোক অথবা যৌথ উৎপাদন, পুরো প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি দেখতে চায় ভারত।
কোয়াডে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, কোয়াড মূলত অবাধ মুক্ত ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জোট। এটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে করোনা মোকাবিলা ও টিকা নিয়ে কাজ করেছে।

যদিও কোয়াড ৪ দেশের একটি ঐক্য। তারপরও এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে এর পাশে চাই আমরা। এ ইস্যুতে ঢাকা যে সিদ্ধান্তেই উপনীত হোক না কেন, তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা থাকবে।

বাংলাদেশে চীনের ক্ষমাগত প্রভাব বাড়ার প্রেক্ষিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা নাচক করেন সচিব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক ইউনিক।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভাষা, সংস্কৃতিসহ বহু উপাদানে এই রকসলিড রিলেশনশিপ মজবুত ভিত্তি পেয়েছে। সম্প্রতি র‍্যাবের প্রতি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্ক নিয়েই ভাবি। এটি তৃতীয় একটি দেশের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বৈঠকে সকল বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিন্তু গোপনীয়তার স্বার্থে সবকিছু বলা যাচ্ছে না।

তবে, আলোচিত বিষয়গুলোর বেশির ভাগই বাংলাদেশ ও ভারত ঐক্যমতে রয়েছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আরও ভালো সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি কবে হতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জলবিদ্যুতের এ বিষয়টিতে বিদ্যুৎ বাণিজ্য নীতি নিয়ে কাজ করছে ভারত।

ভুটান বা নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে বিধি সংক্রান্ত কোন জটিলতা নেই। এখানে মূল সমস্যা হচ্ছে, বিদ্যুৎ রপ্তানিতে সঞ্চালন লাইন তৈরি। তা নিয়ে বর্তমানে কাজ করছে ভারত। এ খাতে দেশগুলোর সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে কী গুরুত্ব পাবে এই প্রশ্নের উত্তরে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, দুই দেশের সম্পর্কে সবুজ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন, তরুণদের জন্য আরও কর্ম সংস্থান তৈরির মতো বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কে প্রাধান্য পাবে।দ্বিপক্ষীয় যৌথ পাইপলাইন নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে অভূতপূর্ব পাইপলাইন তৈরি হতে যাচ্ছে।

যা দিয়ে ভারতের এক অংশ থেকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে অন্য অংশে হাই স্পিড ডিজেল প্রেরণ করা হবে। আশা করছি আগামী বছরে পাইপলাইনের উদ্বোধন করা হবে।

প্রভাতনিউজ/এনজে