তরমুজ, কাঁঠাল ও বেলের পর এবার আনারসের কেজি ৮০ টাকা

রমুজ, কাঁঠাল ও বেলের পর এবার আনারসও কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি আনারস ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্রেতাই আনারসের দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। ইচ্ছামতো দাম বৃদ্ধি করে আনারস বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে শহরের মজমপুর ও এনএস রোড এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ছোট আনারস ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। রমজানের আগেও বাজারে প্রতি কেজি আনারস বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আনারসের দাম বেড়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। কৌশলে সিন্ডিকেট করে কুষ্টিয়া শহরের আনারস ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো আনারসের দাম বাড়িয়েছেন। সরবরাহ থাকলেও সংকটের কথা বলে আনারসের দাম বেশি নিচ্ছেন। এতে ঠকছেন ক্রেতারা।

আনারস কিনতে আসা তরিকুল ইসলাম নামে একজন বলেন, আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। তাই ইচ্ছে থাকলেও আনারস কেনার সাধ্য নেই। কারণ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আনারসের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। রোজার আগে কিনতাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি। এখন সেই আনারস ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। অসাধু ব্যবসায়ীরা এই প্রক্রিয়ায় আনারস বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আনারস গরিব মানুষের পক্ষে ৮০ টাকা কেজি কেনা সম্ভব নয়।

সাইদুল হোসেন নামে এসএস রোডের এক ক্রেতা বলেন, আড়তদাররা কৃষকদের কাছ থেকে পিস হিসেবে আনারস কিনে খুচরা বাজারে কেজি দরে বিক্রি করছেন। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ মূল্য বাড়িয়েছেন। কৌশলে সিন্ডিকেট করে আনারস ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো আনারসের দাম বাড়িয়েছেন। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন অভিযান পরিচালনা করা হয়। কারণ তরমুজের মতো আনারসও এখন সিন্ডিকেটের হাতে চলে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপুর, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও রাঙ্গামাটির কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি পিস আনারস ১২ থেকে ২০ টাকা করে কিনে এনে পাইকাররা তা কেজিতে বিক্রি করছেন এবং ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন।
এক ক্রেতা বলেন, সারাজীবন পিস হিসেবে আনারস কিনে আসছি। এখন ব্যবসায়ীরা কেজি দরে আনারস বিক্রি করছেন আর ক্রেতাদের ঠকাচ্ছেন। রমজানের আগে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করা হলেও এখন তা দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি আনারস বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। যেভাবে দাম চাওয়া হচ্ছে, আমাদের কেনার সাধ্য নেই।

মজমপুর এলাকার জেসমিন স্টোর অ্যান্ড ভ্যারাইটিজের মালিক জসিম উদ্দিন কে বলেন, রোজার আগে কম দামে আড়তদারদের কাছে থেকে কিনতাম, কম দামে বিক্রি করতাম। এখন ২২০০ টাকা মণ কিনছি। তাতে ৫৫ টাকা কেজি কিনে এনে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। কেনা বেশি দামে, এজন্য বিক্রিও বেশি দামে।

আনারস বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, তাপদাহে বর্তমানে বাজারে আনারসের চাহিদা বেশি। আর চাহিদার তুলনায় আমদানি কম। এ জন্য আড়তে আনারসের দাম অনেক বেশি। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আনারস বিক্রেতা কালা মানিক বলেন, ২২০০-২৪০০ টাকা মণ কিনে আনি আড়তদারদের কাছে থেকে। বিক্রি করি ৭০ টাকা কেজি।
কুষ্টিয়া পৌর বাজার ও মজমপুর বনানী সিনেমা হলের গলিতে ছয় আনারস ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের মধ্যে আড়তদার শাকিল আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ বছর আনারসের দাম বেশি। আমরা টাঙ্গাইলের মধুপুর, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও রাঙ্গামাটির কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি পিস আনারস ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে ক্রয় করি। দুই হাজার টাকা মণ বিক্রি করি। পরিবহন, শ্রমিক খরচ, আড়ত ভাড়া মিলিয়ে অনেক দাম পড়ে যায়। তবে তুলনামূলক বেশি লাভ করেন খুচরা বিক্রেতারা।

কুষ্টিয়ার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান বলেন, সরকার রোজার আগে কয়েকটি কৃষি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি সেগুলোর ব্যাপারে। তবে আনারসের ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই। তবুও আমরা বিষয়টি দেখবো।
কুষ্টিয়া কৃষি বিপণন অধিদফতরের জেলা বাজার কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিদিনই বাজার ঘুরে দেখছি। বাজারগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। আড়তদারদের কাছে গেলে ওরা কাগজপত্র ঠিকই দেখায়। তবে এর মধ্যে আড়তদারদের কারসাজি আছে নিশ্চয়। কৃষি বিপণন আইন অনুযায়ী ফলের ক্ষেত্রে কেজি বা পিস যেভাবেই কিনবেন সেভাবেই বেচতে হবে। বেশি দামে আনারস বিক্রি করা মোটেও ঠিক নয়। দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করা হবে।