তুলির আঁচড়ে কিংবদন্তি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সবুজ বনভূমির মধ্যে লাল ইটের তৈরি ইমারত ক্যাম্পাসকে আরো নান্দনিক করে তুলেছে। দেওয়ালগুলোর সৌন্দর্যে ভিন্নরূপ দিতে আঁকা হয়েছে দেওয়ালচিত্র। তাতে বাহারি রঙতুলির আঁচড়ে ফুটে উঠেছে জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। রাতের অন্ধকারে দেওয়ালচিত্রগুলো হয়ে ওঠে আরো মনোহর। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও এই বিশেষ দৃশ্যগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে রাখেন। এছাড়া মনোমুগ্ধকর এসব দেওয়ালচিত্রের সঙ্গে স্মৃতি রাখতে ক্যামেরার পিছনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালগুলোতে বাংলার লোকজ নকশা, ছায়াপথ, কার্টুন, বাংলা সাহিত্যের ভালোবাসার তিন দাদা ‘ঘনাদা’ ‘টেনিদা’ আর ‘ফেলুদা’র মতো চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া আইরিশ সিনেমা ‘সং অব দ্য সি’ এবং জাপানি সিনেমা ‘মাই নেইবর তোতোরো’র মতো জগিবখ্যাত অ্যানিমেশন মুভির বাহারি চিত্রকর্ম। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কাছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের জন্য ব্যবহূত ভবনের দেওয়ালে আঁকা হয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের তিন কিংবদন্তি এ টি এম শামসুজ্জামান, হুমায়ুন ফরীদি ও দিলদারের চিত্রকর্ম। জানা যায়, দেওয়ালগুলোর ভিন্নরূপ দেওয়ার এ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মামুরের। তার এ কাজে সহযোগিতা করেছেন একই বিভাগের শিক্ষার্থী অপর্ণ অধিকারি, আবির আর্য, থিন জো মং, বিপিন চাকমা, ফারজাদ দিহান ও জাকিয়া রহমান।

দেওয়ালগুলো নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে রাঙাতে শুরু করেন তারা। তাদের এ উদ্যোগকে ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা স্বাগত জানিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় দেওয়াল রাঙানোর জন্য রঙও কিনে দেন। এতে অনুপ্রেরণা পেয়ে ৪০টির বেশি মনোমুগ্ধকর ছবি এঁকেছেন তারা।

এ উদ্যোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ মামুর বলেন, ‘ঝকঝকে লাল ইটের দেওয়ালগুলো চোখের সামনেই আস্তে আস্তে নোংরা হয়ে যেতে দেখলাম। ভাবলাম, লাল দেওয়ালে ছবি আঁকলে তো মন্দ হয় না। এরপর শুরু দেওয়াল রাঙানোর কাজ। আমাকে সাহায্যের জন্য বিভাগের কয়েক জন জুনিয়র এগিয়ে এলেন। এতে অনুপ্রেরণা পেয়ে নিজেদের পকেট থেকে খরচ করে দেওয়াল রাঙানোর কাজ পুরোদমে শুরু করি। কিন্তু এভাবে তো আর বেশি দিন সম্ভব নয়। তাই কয়েকটা ছবি আঁকার পর অর্থ সংকটে কাজ বন্ধ হয়ে গেল।

বিশ্ববিদ্যালয়েরই কিছু বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় রঙ কিনে দিতে রাজি হলেন। একে একে চল্লিশটার বেশি দেওয়ালচিত্র এঁকেছি । আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো চোখের শান্তি। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বাইরে থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের চোখেও যে মুগ্ধতা দেখেছি, সেটাই আনন্দের।’