নুরের সংগঠনের ৫৩ সদস্য গ্রেপ্তার

নূর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ছাত্র, যুব ও শ্রম অধিকার পরিষদের ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সবশেষ গত মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ছাত্র ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেনকে ক্যাম্পাস থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে ২ দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করা হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র, যুব ও শ্রম অধিকার পরিষদের ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন এই সংগঠনের মূল নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছাত্রী, কিশোর, চাকরিজীবীসহ অন্তত ১০ জন রয়েছেন, যাদের নাম মামলার এজাহারে নেই। মামলাগুলো তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ছাত্র, যুব ও শ্রম অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক বলেন, সব কটি মামলাই হয়রানিমূলক। গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল রাস্তায় নামলেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিস্থিতিতে নুরের পাল্টা জানিয়ে দিয়েছিলেন, সভা-সমাবেশ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং যেকোনো মূল্যে তারা কর্মসূচি পালন করবেন। সে অনুযায়ী গত ২৫ মার্চ তারা মতিঝিলে মিছিল নিয়ে যান। সেখান থেকেই তাদের ৩৮ জনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।

এরপর গত ২৭ মার্চ ভাসানী অনুসারী পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নুর ও তার সংগঠনের লোকজন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নতুন একটি মামলা দেওয়া হয়।

নুরুল হক নুর জনিয়েছেন, এই কর্মসূচির পর সংগঠনটির কমপক্ষে ৪ জন সদস্য নিখোঁজ ছিলেন। তাদের একজন নাজমুস সাকিবকে ৮৪ ঘণ্টা আটকে রেখে পুলিশ ছেড়ে দেয়। বাকি ৩ জনকে ২ দিন আটকে রাখার পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গত ২৫ মার্চ পল্টন ও শাহবাগ থানায় ২টি এবং ২৭ মার্চ শাহবাগ থানায় ১টি মামলা দায়ের করা হয়।

পল্টন থানার মামলায় হত্যাচেষ্টা, ‘মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র’ নিয়ে দাঙ্গা ঘটানো, বেআইনি সমাবেশ, সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয় ৫১ জনের নামে। এর বাইরে শাহবাগ থানায় ‘আসামি’ ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় মতিঝিলের মামলায় গ্রেপ্তার আসামি আবুল কালাম আজাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়। শাহবাগ থানার অপর মামলায় অভিযোগ ছিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বাসে আগুন দিতে উদ্যত হওয়া’।