পাইপলাইনে ভারত থেকে সরাসরি তেল পাবে বাংলাদেশ

পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশ সরাসরি জ্বালানি তেল পাবে। পরিবহন খরচ কমানো এবং মাঠপর্যায়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তেল সরবরাহ শুরু হলে অর্থনৈতিকভাবে সুফল পাবে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এ তথ্য জানায়।

উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভারত থেকে সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের রেলহেড তেল ডিপোতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০১৮ সালে সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে বৃহস্পতিবার পার্বতীপুরের সোনাপুকুর অংশে পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু হয়। পাইপলাইন ভারতের শিলিগুড়ির নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ১৩০ কিলোমিটার ভারতের শিলিগুড়ি, বাংলাদেশের পঞ্চগড়, নীলফামারীর হয়ে পার্বতীপুরে আসবে। তেল সরবরাহ শুরু হলে এ অঞ্চলের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাবে।

কৃষকরা জানান, আমরা খুবই কষ্ট করে ইরি আবাদ করেছি। এখন যদি এই অঞ্চলে তেল পাওয়া যায় তাহলে আমাদের খুবই সুবিধা হবে।

এই অঞ্চলের মানুষদের তেল সংকটে পড়তে হবে না বলে জানিয়েছেন পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী। তিনি বলেন, দিনাজপুর, ঠাকুগাঁও, পঞ্চগড় এই অঞ্চলের মানুষদের আর তেল সংকট হবে না। তাদেরকে আমরা সঠিক সময়ে তেল দিতে পারব।

পাইপলাইনের কাজ শেষ হলেই ভারত থেকে তেল সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম কিষান কঙ্গোর। তিনি বলেন, পাইপলাইন চালু হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সরবরাহ করতে আমরা সক্ষম হব।

পেট্রোলিয়াম করপোরেশন মনে করে, তেল সরবরাহ শুরু হলে অর্থনৈতিকভাবে সুফল পাবে উত্তরাঞ্চলের মানুষ।

পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোঃ আবু বকর সিদ্দীক বলেন, কৃষিকাজে জ্বালানি তেল যাতে সঠিক সময়ে কৃষক পান সে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। আর যদি খরচ কমে তাহলে দামেও প্রভাব পড়বে।

এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে ৪৩ হাজার টন তেল পরিবহন সম্ভব। ৫২০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে।