পুলিশ পরিদর্শকের বাসায় শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন, পালিয়ে যাওয়ায় প্রকাশ্যে আবারও মারধর

বরিশাল নগরীতে রাস্তায় প্রকাশ্যে শিশু গৃহকর্মীকে বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমানের স্ত্রী’র বিরুদ্ধে। নগরীর চৌমাথা বাজার এলাকায় এ ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজন বাঁধা দিতে গেলে পরিদর্শকের ছেলেও স্থানীয়দের সাথে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে কোতোয়ালী মডেল থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

তবে নির্যাতনকারী কারো নাম জানাতে পারেনি পুলিশকে। নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মীর নাম মনি (১১)। সে বাবুগঞ্জ উপজেলার পিতা মন্টু হাওলাদারের মেয়ে। শিশু গৃহকর্মী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রুপাতলী এলাকায় ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমানের বাসায় কাজ করতেন। এসময় তাকে অনেকবারই বকাঝকা করা হতো। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর তাকে নগরীর চৌমাথা এলাকায় বসে মিজানুর রহমানের স্ত্রী রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধর করে। এসময় তার ছেলেও চর থাপ্পর দেয়।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মেয়েটি চৌমাথা বাজারের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় এক মহিলা ও একজন ছেলে শিশুটিকে মারধর শুরু করে। এসময় মানুষের ভীড় বাড়তে থাকলে পার্শ্ববর্তী ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং থানা পুলিশে সোপর্দ করে।

অভিযুক্ত মহিলার স্বামী জেলা ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তিনদিন আগে শিশুটির মা-বাবা তাদের বাসায় রেখে যান। তার স্ত্রী অসুস্থ। বৃহস্পতিবার সকালে সে রিপোর্ট দেখানোর জন্য বাইরে বের হয়েছে। আমি বাসায় একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এই সুযোগে শিশুটি ঘরের বাইরে বের হয়ে যায়।

১২ বছরের শিশু আপনার বাসায় কি কারণে রেখেছেন? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশুটি অসহায় হওয়ায় তার মা আমার বাসায় দিয়ে গিয়েছিলেন। আমার সস্তানদের সঙ্গী হিসেবে থাকতো শিশুটি। তাকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়নি।

বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, শিশুটির সাথে কথা বলেছি। ৬ দিন আগে সে ঐ বাসায় কাজ শুরু করেছে। সেখানে বকাঝকা করায় মেয়েটি ক্ষুদ্ধ হয়ে বাসা থেকে বৃহস্পতিবার সকালে বের হয়ে যায়। পরিদর্শকের পরিবারের লোকজন খুঁজতে বের হয়, ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে পেলে তারা বাসায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু মেয়েটি না যেতে চাইলে টানা হেচড়া হয়। যে বিষয়টি দৃষ্টিকটু। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

শিশুটি বর্তমানে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে, তার পরিবার এসে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান জানান, যেহেতু শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেহেতু শিশুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। ভিকটিমের জবানবন্দি ও বাবা মায়ের অভিযোগ সব কিছু শুনেই ঘটনার তদন্ত করে যা সামনে আসবে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান। এই ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।