ফেনীতে ধর্ষকের সঙ্গে কারাগারেই তরুণীর বিয়ে

মিষ্টি মুখ, কোলাকুলি, বর-কনেপক্ষ সবাই ছিল। কিন্তু বিয়ে হলো কারাগারে। এ এক অন্যরকম বিয়ে। ধর্ষণ মামলায় জামিনের শর্তে ফেনী জেলা কারাগারে এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। দেনমোহর ধরা হয় ৬ লাখ টাকা। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক এ দোয়া করেছেন সবাই।

ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধে যে কারাগারে রাখা হয়েছে আসামিকে সেই কারাগারেই জাঁকজমক আয়োজনে ধর্ষণের তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হলো আসামির।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় কারাগারের চৌদ্দশিকের ভেতর থেকে বের করে বর সাজানো হয় আসামিকে। কনেও সেজেছেন বধূ বেশে। মিষ্টি নিয়ে বরযাত্রী এসেছেন কারাফটকে। বরকে বরণে ছিলেন কনেপক্ষের লোকজন। কারা অভ্যন্তরে যখন এমন আয়োজন ঠিক তার বাইরে ছিল স্বজন, এলাকাবাসী আর গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি।

এরপর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন বর-কনে। বিয়ে পড়ান কাজী। তিন কবুলে যুগলবন্দী হয় দুজন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও উপস্থিত ছিলেন। ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে শেষ হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

ধর্ষণের মতো ঘৃণ্যতা থেকে মুক্তি পেতে এবার হাইকোর্টের নির্দেশে ফেনী জেলা কারাগারের আয়োজনে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সকালে প্রথমে মিষ্টি নিয়ে দুপক্ষের লোকজনসহ আইনজীবীরা কারাগারে ফটকে হাজির হন। পরে বিয়ে পড়াতে আসেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামানসহ কাজী আবদুর রহিম।

এমন একটি বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজের আত্মতৃপ্তির কথা জানালেন ফেনী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুজ্জামান।

কারা সূত্র জানায়, গত ২৭ মে জেলার সোনাগাজীর চরদরবেশ এলাকার এক তরুণীকে ধর্ষণ করে জহিরুল ইসলাম জিয়া নামে এক ইউপি সদস্যের ছেলে। এর পরদিনই ওই তরুণী নিজে থানায় হাজির হয়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

একপর্যায় ২৯ মে ধর্ষক জিয়াকে আটক করে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ। পরে অভিযুক্তের পরিবার জামিনে মুক্তি পেলে বিয়ে করবে শর্তে ধর্ষকের জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করে।

তবে হাইকোর্ট ওই আসামির জামিন না দিয়ে কারাফটকেই ধর্ষক এবং ধর্ষণের শিকার তরুণীর বিয়ে আয়োজনের জন্য ফেনী কারাগারের তত্ত্বাবধায়কের প্রতি নির্দেশ দেন। সেই সাথে এই বিয়ের বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।