ফের লকডাউন প্রসঙ্গে যা বললেন স্বাস্থ্যের ডিজি

মহামারি করোনা ভাইরাসে গত এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যু ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে সোম ও মঙ্গলবার মৃত্যু হয় ২৬ জন করে। গত এক সপ্তাহে মারা গেছেন ১০১ জন। শুধু মৃত্যুই নয়, কয়েকগুণ বেড়ে গেছে করোনার সংক্রমণের হার।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭১৯ জনের শরীরে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবিলায় দেশের সব হাসপাতাল প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। এ সময় দেশে করোনার কারণে ফের লকডাউনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ফের লকডাউন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কঠোর লকডাউনের বিষয়ে আপাতত কোনো নির্দেশনা নেই। তবে রেস্তোরাঁ, গণপরিবহন ও পর্যটন কেন্দ্রে জনসমাগম কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং ঢাকার কোভিড-১৯ হাসপাতালের পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাদের সমস্যার কথা শোনা হয়েছে এবং সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যের ডিজি আরও বলেন, যে যেখানে আছেন, সেখানেই চিকিৎসা নিন। বিদেশ থেকে আগতদের কঠোর কোয়ারেন্টাইন মানার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের শেষের দিকে এবং নতুন বছরের শুরুতে দেশে করোনায় সংক্রমণ নিম্নমুখী দেখা যায়। গত ১৯ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল, একপর্যায়ে তা তিন শতাংশেরও নিচে নেমে আসে। কিন্তু মার্চের শুরু থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকে।

গত এক সপ্তাহের মধ্যে বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) মারা যান ৬ জন। এদিন আক্রান্ত হন ১ হাজার ৫১ জন। পরদিন শুক্রবার (১২ মার্চ) করোনায় মৃত্যু হয় ১৩ জনের। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয় এক হাজার ৬৬ জন। শনিবার (১৩ মার্চ) সরকারি হিসাবে মারা যান ১২ জন। এদিন করোনা শনাক্ত হয় এক হাজার ১৪ জনের শরীরে।

পরবর্তী তিন দিন; রোব, সোম ও মঙ্গলবার মৃত্যু ও আক্রান্ত যথাক্রমে ১৮ জন ও ১ হাজার ১৫৯, ২৬ জন ও ১ হাজার ৭৭৩ এবং ২৬ জন ও ১ হাজার ৭১৯ জন।