বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বকে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন: অমর্ত্য সেন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা দিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বকে পরিবর্তন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন- এমনটাই বললেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। লন্ডনে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যান্ড ভিশনস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে তিনি বঙ্গবন্ধুকে অ্যাখ্যা দেন বিষ্ময়কর মানুষ ও শক্তিশালী নেতা হিসেবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, পুঁজিবাদী বতর্মান বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে সফল হয়েছে বাংলাদেশ। 

বাংলার কৃষক, শ্রমিক, মজুর- সমাজের সব স্তরের ও সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে সমতার দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। তাঁর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মকাণ্ডে বার বারই এমন সাম্যের নীতি স্পষ্ট ছিলো।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকসের সাউথ এশিয়া সেন্টার ও লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে অমর্ত্য সেন তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুর এমন সব দূরদর্শী চিন্তাভাবনার কথা। বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী বঙ্গবন্ধু কখনো ধর্ম ও রাজনীতিকে একসঙ্গে মেলাননি, তাই শুধু বাংলা নয়, বিশ্ববন্ধু হয়ে ওঠেন তিনি।

জানান, বাংলার চিরাচরিত কৃষ্টি-কালচারই প্রভাবিত করে বঙ্গবন্ধুকে। যা তাঁর জীবনের মূল নীতির অংশ হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংবিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যার প্রতিফলন ঘটে।

সেমিনারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এসে পুঁজিবাদী বিশ্বের মাঝেও সমতার বাংলাদেশ অনেকটাই দৃশ্যমান।

তবে এই ধর্ম নিরপেক্ষ ও সমতার দেশ গড়ার নীতি এবং তার বাস্তবায়নের ফলও দিতে হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, যারা তাঁর নীতিতে বিশ্বাসী ছিলো না তাদের হাতেই নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। 

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন- লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকসের সাউথ এশিয়া সেন্টারের পরিচালক ডেম মিনোচে শফিক ও অধ্যাপক আলনুর ভিমানি।