বিনোদন তারকাদের বিজয় দিবসের ভাবনা

বিনোদন তারকাদের বিজয় দিবসের ভাবনা

বিনোদন: বাঙালি জাতির বীরত্বগাথার এক অবিস্মরণীয় দিন আজ (১৬ ডিসেম্বর)। বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। সেই সঙ্গে পালন করা হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। কারণ আজ বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি হলো।

স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ অর্জন আমাদের এনে দিয়েছে একটি সার্বভৌম দেশ, স্বাধীন জাতিসত্তা, পবিত্র সংবিধান, নিজস্ব মানচিত্র ও লাল-সবুজ পতাকা। তাই আজ চারদিকে উৎসবের আনন্দ। মুখে মুখে জয় বাংলার গান। হাতে হাতে প্রিয় লাল-সবুজের পতাকা। তাৎপর্যপূর্ণ দিনটিকে ঘিরে নিজেদের ভাবনা ও অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের তারকারা।

সোহেল রানা

সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেতা সোহেল রানা। তার অভিনীত ও প্রযোজিত ‘ওরা ১১ জন’ সিনেমাটি এখনও মুক্তিযুদ্ধের সিনেমার মধ্যে সর্বাধিক আলোচিত। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন অনেক ঘটনাই এখনও স্পষ্ট আমার কাছে। শুধু একদিনের ঘটনার কথা বলি। সারা রাত হেঁটে খুব ক্লান্ত হয়ে কেরানীগঞ্জের আটি বাজারের কাছে গেলাম। তখন প্রচণ্ড ক্ষুধা। আমার বন্ধু মোস্তফা মহসিন মন্টু বলল, দেখ কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কিনা। আমরা গায়ে চাদর জড়িয়ে বাইরে বের হতাম। কারণ চাদরের আড়ালে স্টেনগান থাকত। আমরা হাঁটছিলাম খাবারের সন্ধানে। একটা বাড়ির সামনে গিয়ে দেখলাম কতগুলো মুরগি ছোটাছুটি করছে। কিছু মুরগি বাচ্চা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেখে মনে হল, এ বাড়িতে অনেক মুরগি রয়েছে। হয়ত ডিমও পাওয়া যাবে। হাতে যা পয়সা আছে তা দিয়ে ডিমগুলো কিনে নিলে আমরা খেতে পারব। বাড়িতে ঢুকে এক বয়স্ক মহিলার সঙ্গে দেখা।

তাকে বললাম, মা, আমাদের কাছে কিছু ডিম বিক্রি করবেন? সে বলল, বাবা ডিম তো নেই। শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল। এরপর আমি মন খারাপ করে চলেই আসছিলাম। দশ-বিশ কদম হাঁটার পর ঘুরে আবার পেছন দিকে তাকালাম। দেখি একটি লোক ওই মহিলার কাছ থেকে দুটো ডিম নিয়ে যাচ্ছে। দেখেই আমার খুব রাগ হল। গায়ের চাদর সরিয়ে বন্দুক দেখালাম। কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম ডিম থাকা সত্ত্বেও আমাকে দিলেন না কেন? মহিলা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল, ডিম কোথায়? আমি বললাম, এইমাত্র আপনি ওই লোকটিকে ডিম দিলেন, তখন মহিলা বললেন, ওইটা তো ডিম নয়। আমি ওকে বদা দিয়েছি। ডিমকে ওরা আঞ্চলিক ভাষায় ‘বদা’ বলত। বুঝলাম, ডিম বলাতে মহিলা সেটি কী জিনিস চিনতে পারেননি। পরে ওই মহিলা আমাদের ত্রিশটা ডিম দিয়েছিলেন। কোনো দাম নেননি। ডিমগুলো এনে আমরা সিদ্ধ করেছি। একটা করে ডিমও আমাদের ভাগে পড়েনি। অর্ধেক করে খেয়েছি।

মৌসুমী

ছোটবেলায় বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে স্কুলে ক্রিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম। তখন থেকেই মনে হতো এই দিনটি আনন্দের। কিছুটা বড় হয়ে জানলাম এর মর্ম কথা। নয় মাস যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছিল ১৬ই ডিসেম্বর। বই পড়ার পাশাপাশি মায়ের কাছে মুক্তিযুদ্ধের অনেক গল্প শোনেছি। কিন্ত এতদিন পরে এসে আমার মনে হয় যে, লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল সেখানে কি আমারা পৌছাতে পেরেছি? আজকে সিনেমা পাড়ার অবস্থা দেখেন, কেউ এখানে নির্ভরতা খুঁজে পায় না। অথচ আমাদের সিনেমার সোনালী ইতিহাস রয়েছে। আমার মনে হয়, বিজয় দিবসে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তর আলোচনা হওয়া উচিত। এতে করে নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা ও বিজয়ের সত্যিকার বার্তা পৌছবে।

শাবনূর

বিজয় দিবস আমার কাছে অন্য রকম এক অনুভূতি, একটি স্বাধীন দেশ পাওয়ার আনন্দ। ছোট বেলা থেকেই এই দিনটিকে স্মরণ করি শ্রদ্ধাভরে। আমি চলচ্চিত্রের মানুষ, সব সময়ই চেষ্টা করেছি আমার কাজের মধ্যে বিজয়ের ভাব-মর্যাদা ফুটিয়ে তুলতে। আমার মনে হয় প্রত্যেকেরই বিজয় উদযাপন করা উচিত তার কাজের মাধ্যমে। প্রত্যেকে যদি তার কাজটা সঠিকভাবে করে তাহলেই বোধয় বিজয় দিবসের সবচেয়ে বড় সম্মানটি প্রকাশ পাবে। আগামীকাল ১৭ ডিসেম্বর আমার জন্মদিন তার আগে বিজয় দিবস। বলা যায় একসঙ্গে আমি দুটো আনন্দ উপভোগ করি।

আমিন খান

যদি বাংলাদেশের কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয় জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিন কোনটি- সে অবধারিতভাবে বলবে সেটি হচ্ছে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। কারণ সারা দেশে একজন মানুষও নেই, যার কোনো না কোনো আপনজন বা প্রিয়জন সেই যুদ্ধে মারা যায়নি। আমি গর্বিত এমন একটি দেশের নাগরিক হতে পেরে।

পরীমণি

এক সময় মনে হতো, বিজয় দিবস মানে মঞ্চের সামনে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করা। কিছুটা বড় হওয়ার পর নিজেই স্কুলের সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠেছি, তখন ভেবেছি, এই দিনটি শুধুই আনন্দ করার জন্য। এখন মনে হয়, বিজয় দিবস মানে দেশাত্মবোধকে মনে লালন করা। সত্য, সুন্দররকে আলিঙ্গন করা। সবাইকে আমার পক্ষ থেকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

ইমন

১৬ ডিসেম্বর বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। এর চেয়ে বড় কোনো উৎসব হতে পারে না। ৭১ সালে জন্ম না হলেও পরবর্তীতে বইয়ের মুক্তিযুদ্ধের গল্প পড়েই সেই দিনগুলির কথা চোখের সামনে ভেসে উঠে। যেন চোখের সামনে স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের নির্যাতনের নির্মম চিত্র। একটা মানুষ কীভাবে আরেকটা মানুষের উপর এতটা বর্বর নির্যাতন করতে পারে সেটা ভেবে এখনও বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।

সাইমন সাদিক

শৈশবের ১৬ ডিসেম্বরকে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় উল্লেখ করে সাইমন বলেন, ‌আমার ভেতরে বা আমাদের ভেতরে যে দেশপ্রেমের বীজ সেটা কিন্তু শৈশবের বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসেই তৈরি হয়েছে। সে সময়ে স্কুলে কুচকাওয়াজসহ চিত্রাঙ্কন ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম। এভাবেই কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আস্তে আস্তে জেনেছি, দেশপ্রেম তৈরি হয়েছে। ছোটবেলায় ভাবতাম দেশে আরেকবার যুদ্ধ আসলে আমি মুক্তিযোদ্ধা হব।

মাসুমা রহমান নাবিলা

আমার অহংকার আমি স্বাধীন দেশে জন্মেছি। আমি এখন গর্বের সাথে বলতে পারি, আমরা বিজয়ী মানুষ। সারা বিশ্ব জানে, দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশের ইতিহাসে এমন চিত্র দেখা যায়নি। শুধু বিজয়ের মাসেই হয়ত আমরা এর মর্ম বুঝি। তবে সবসময়ই আমাদের এই বিজয়ের কথা মাথা রেখে দেশের জন্য ভালো কিছু করার কথা ভাবা উচিত।

এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের তারকারা। নিউজজি পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

কুমার বিশ্বজিৎ লিখেন, বাংলাদেশের ৫০তম বিজয় দিবসে সবাইকে অনেক শুভেচ্ছা। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। সম্প্রীতি, সমৃদ্ধি ও গৌরবে এগিয়ে থাক আমার বাংলাদেশ।

মিশা সওদাগর লিখেন, আমার সোনার বাংলা..আমি তোমায় ভালোবাসি.. স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী..বিজয়ের শুভেচ্ছা।

আসিফ আকবর লিখেন, বিজয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা। বাংলাদেশে আবার প্রতিষ্ঠিত হোক গণতন্ত্র। জাতির গর্ব বীর শহীদ মুক্তিসেনাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

মেহজাবীন চৌধুরী লিখেন, বিজয়ের ৫০ বছরের বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য, অদম্য বাংলাদেশ। বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

শাকিব খান লিখেন, বিজয় এর ৫০ বছর। মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

জয়া আহসান লিখেন, আজ বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী। অনেক রক্ত, অনেক প্রাণ, অনেক আত্মদানে আমাদের এই বাংলাদেশ। মুক্তির যুদ্ধে তাদের স্বপ্ন হয়ে থাকুক আমাদের ধ্রুবতারা।

বাপ্পি চৌধুরী লিখেন, ৭১ দেখিনি; তবে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি দেখেছি। হয়তো বাংলাদেশ নামক দেশটির শতবছর পূর্তি এ প্রজন্মের অধিকাংশেরই দেখার সুযোগ হবে না। তবে একটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে বেঁচে থাক অনন্তকাল। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন। হে আমার বাংলা মা; আমার প্রতিটি জন্ম যেনো তোর বুকেই হয়।

তারিন জাহান লিখেন, সবাইকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী (৫০ বছর) ও মহান বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা।

নুসরাত ফারিয়া লিখেন, বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

প্রভাত নিউজ/কেকে