বিপিন রাওয়াতের শেষকৃত্য শুক্রবার

ঢাকা: হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত জেনারেল বিপিন রাওয়াতের শেষকৃত্য হবে শুক্রবার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার লাশ দিল্লিতে পৌঁছাবে। জেনারেল বিপিন রাওয়াত ছিলেন ভারতের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ। সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত প্রধান। সাবেক সেনাপ্রধান রাওয়াতকে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এই নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তিনি ১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। জম্মু ও কাশ্মীর এবং চীনের সাথে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখাতেও তিনি সেনার কমান্ডিং অফিসার ছিলেন।

বুধবার হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনি ও তার স্ত্রী মারা যান। তাদের সাথে মারা গেছেন আরো ১১ জন। দুর্ঘটনায় একমাত্র জীবীত ব্যক্তি হলেন বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং। তিনি সুলুরে বিপিন রাওয়াতকে স্বাগত জানিয়ে ওয়েলিংটন নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পরেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। তারপর প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠক ডাকেন।

রাজনাথের বক্তব্য

কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বৃহস্পতিবার সংসদে এই দুর্ঘটনা নিয়ে বলেন। ঘটনার বিবরণ দিয়ে রাজনাথ জানান, মৃত সকলের লাশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশেষ বিমানে দিল্লিতে নিয়ে আসা হবে। বিমান বাহিনীর সিনিয়ার অফিসার মানবেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কাজও শুরু করে দিয়েছে।

লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা সভার তরফে মৃত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর লোকসভা মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কিছুক্ষণ মৌন থাকে।

বিরোধী সংসদ সদস্যরা শীত অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু তারাও বিপিন রাওয়াত ও অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এদিন আর বিক্ষোভ দেখাননি। সোনিয়া গান্ধীসহ অনেক বিরোধী সংসদ সদস্য লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন।

দুর্ঘটনার কারণ

সেনা বা সরকারের তরফ থেকে দুর্ঘটনার কারণ জানানো হয়নি। সেনার তরফ থেকে বলা হয়েছে, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সেনা সূত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছে, এর আগের কয়েকটি উড়ানে এই হেলিকপ্টারে কোনোরকম অসুবিধা দেখা দেয়নি। এই হেলিকপ্টারে কখনোই কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ ছিল না। ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রটোকল অনুসারে প্রতিবার ভিভিআইপি উড়ানের আগে হেলিকপ্টারের তিন দফা পরীক্ষা হয়। তারপর হেলিকপ্টারটি সিল করে দেয়া হয়। এই হেলিকপ্টারের দুইটি ইঞ্জিনই খারাপ হয়ে গেলে, সেটি নিরাপদে ধানখেতে নেমে আসতে পারে। ২০১৩ সালে রাশিয়া থেকে এই হেলিকপ্টার ভারতে আসে এবং ২০১৮ সালে শেষবারের মতো এই হেলিকপ্টার ভারতে এসেছে।

বিমান বাহিনীর সাবেক প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর (এরোস্পেস সেফটি) কার্তিকেয় কালে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারে হয়তো কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পাহাড় ও জঙ্গল বলে হেলিকপ্টার নামতে পারেনি। তাই সেটি গাছে ধাক্কা লেগে ভেঙে পড়েছে। িসূত্র : ডয়চে ভেলে।

প্রভাতনিউজ/এবিএস