বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের দরকার ১৭০ রান

নেপিয়ারে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বৃষ্টির বাধায় দুবার খেলা বন্ধের পর বৃষ্টি আইনে ১৬ ওভারে ১৭০ রানের টার্গেট পেয়েছে বাংলাদেশ। ১৭.৫ ওভার পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান করলে দ্বিতীয় বার আঘাত হানে বৃষ্টি। এতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। 

এরপরই বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ওই টার্গেট পায়। এই প্রতিবেদন লেখার সময় ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ৯৪ রান। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট করছেন নাইম শেখ ও লিটন দাস।

সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ রেখে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। কারণ, নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে মোস্তাফিজ খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। তবুও প্রশ্ন উঠেছিল মোস্তাফিজের জায়গায় তাসকিনকে নিয়ে আসার জন্য।

তবে, প্রথম ম্যাচের একাদশে না থাকা তাসকিন সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে সময় নেননি। প্রথমেই দলকে এনে দিয়েছেন সাফল্য। মাহমুদুল্লাহ ক্যাচ মিস করার পর জীবন পাওয়া কিউই ব্যাটসম্যান অ্যালেন টিকতে পারেননি। ফিরতি ক্যাচ দিয়ে তাকে সাজঘরে পাঠান তাসকিন। তার সঙ্গে পেসার শরিফুল ইসলামও যোগ দেওয়ায় ৫০ রান পেরুনোর পরই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড।

নেপিয়ারে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টসের আগে একটু বৃষ্টি হওয়ায় পিচে বোলাররা সুবিধা পেতে পারেন, সে হিসেবে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে শুরু থেকে মারমুখী খেলতে থাকেন দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও ফিন অ্যালেন। অতি আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টায় অনেক উঁচুতে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন অ্যালেন। সেটি তালুবন্দী করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। জীবন পেয়ে ওভারের শেষ বলে আবারও ছয় মারতে শট নিলে সেটি উঠে যায় আকাশে। সেখান থেকে বল এসে পড়ে নাঈম শেখের হাতে।

পরের ওভারে নাসুমকেও আক্রমণ থেকে সরিয়ে নেন মাহমুদউল্লাহ, বল তুলে দেন আরেক তরুণ শরিফুল ইসলামের হাতে। দারুণ গতি ও বাউন্সের সঙ্গে দুর্দান্ত এক ওভার করেন শরিফুল। তবে কোনো বাউন্ডারি না পেলেও সেই ওভার থেকে ৭ রান তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।

ষষ্ঠ ওভারে আক্রমণে আসেন সাইফউদ্দিন। ওভারের শেষ বলে আসে সাফল্য। শর্ট ফাইন লেগ থেকে উড়ন্ত ক্যাচ নিয়ে তাসকিন চমকে দিয়েছেন দর্শকদের। এতে ১৮ বলে ২১ রান করে ফিরে যান বিপজ্জনক গাপটিল।

এরপর কনওয়ের উইকেট তুলে নেন শরিফুল। এতে ৫৫ রানে তিন উইকেট পড়ে গিয়ে বিপাকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তবুও দমে যায়নি কিউইরা। সমান গতিতে রান তুলতে থাকে গ্লেন ফিলিপস ও উইল ইয়ং। এ জুটি থামে ১০১ রানে। ১৭ বলে ১৪ রান করে মেহেদী হাসানের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইয়ং। এরপর খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি চাপম্যান। ৮ বলে ৭ রান করে বিদায় নেন তিনি।

এরপর আর কোন অঘটন ঘটতে দেননি ড্যারেল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মাত্র ২৭ বলে ৬২ রান যোগ করেছেন তারা। মাত্র ২৭ বলে ফিফটি করা ফিলিপস ৩১ বলে ৫৮ এবং মিচেল ১৬ বলে ৩৪ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।

এরপরই আবার নামে বৃষ্টি। দ্বিতীয়বার বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৭.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৩ রান। এর আগে, প্রথমে ১৩তম ওভারের দ্বিতীয় বল করার পর বৃষ্টি নেমেছিল।