ভাস্কর্য বিরোধীদের ওবায়দুল কাদেরের হুঁশিয়ারি

সরকারের সরলতাকে দুর্বল না ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী কোনো বক্তব্য বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।

সোমবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত নবীন শিল্পীদের চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বাসা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন।

তিনি বলেন, একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী শিল্পকলার শক্তিশালী মাধ্যম ভাস্কর্যের বিরোধিতায় নেমেছে।

ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি এ সময় বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন রাজনীতির কবি, বক্তৃতায়-বাগ্মিতায় তিনি ছিলেন অমর। 

তিনি বলেন, এই বাংলার জনমানুষের জীবনবদলের শিল্পী ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি ছিলেন বাঙালির সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। বঙ্গবন্ধু সংস্কৃতির ভাঙ্গাসেতু মেরামত করে, তৈরি করেছিলেন অটুট সেতুবন্ধন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য এদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর চ্যালেঞ্জ।

সেতুমন্ত্রী বলেন, অন্য কোনও পথ ও ইস্যু না পেয়ে ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে ধর্মীয় সহনশীলতা বিনষ্টের যে কোন অপচেষ্টা সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে। 

ইতিহাসের মীমাংসিত বিষয় নিয়ে কোন আলোচনা হতে পারে না জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ বিষয়ে কোন আপোষ নেই। 

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মান্নান ইলিয়াস, চিত্রশিল্পী সহিদ কবির ও শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক সৈয়দা মাহবুবা করিম।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলার মাঠে ‘তৌহিদী জনতা ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে এক সমাবেশ থেকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করা হয়।

একই দিনে রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শানে রিসালাত কনফারেন্সে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মামুনুল হকও প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করেন।

এছাড়া এক মাহফিলে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী হুমকি দেন, যে কোনো দল ভাস্কর্য বসালে তা ‘টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেওয়া’ হবে।

হেফাজতের হুমকির মুখে পাল্টা সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠন যুবলীগসহ  বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে।