মিয়ানমারে একদিনে নিহত ৫০, সামরিক আইনের পরিধিও বাড়ছে

মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী বিক্ষোভের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন গেছে গত রোববার। এদিন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে ৩ মার্চ একইদিনে ৩৮ জনকে হত্যা করে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হলেও রোববার সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে।

জানা গেছে, সেনাবাহিনী সারা দেশজুড়ে আরও নতুন নতুন এলাকায় কঠোরভাবে সামরিক আইন আরোপ করতে শুরু করেছে। ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়ের কয়েকটি জায়গায় সামরিক আইন জারি করা হয়েছে। এখানে বিক্ষোভকারীদের সামরিক আইনে বিচার ও সাজা দিতে পারবে জান্তা কর্তৃপক্ষ।

এসব সত্ত্বেও গতকাল সোমবার মান্দালয়সহ বেশ কয়েকটি শহরে রাজপথে নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা।

গত ১ ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে অব্যাহত প্রতিরোধ বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছে।

পশ্চিম ইয়াঙ্গুনের হ্লাইংথায়া উপশহরীয় এলাকায় চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত দুটি পোশাক কারখানায় আগুন ধরিয়ে দিলে সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সামরিক বাহিনী ওই এলাকাসহ ইয়াঙ্গুনের দুটি জায়গায় মার্শাল ল জারি করে। জান্তাবিরোধী বিক্ষোভকারীরা মনে করে, সামরিক অভ্যুত্থানে বাহিনীকে মদদ দিচ্ছে চীন।

তৈরি পোশাক কারখানায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় মিয়ানমারের চীনা দূতাবাস গতকাল রোববার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

কারখানা দুটিতে কারা আগুন ধরিয়েছে তা স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী বা পক্ষ।

তবে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে নেতৃস্থানীয় থিনজার মং তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সবে দুটি কারখানা পোড়ানো হয়েছে। যদি তোমরা মিয়ানমারে শান্তিমতো ব্যবসা করতে চাও, তবে মিয়ানমারের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হও। লড়াকু হ্লাইংথায়ার জন্য আমরা গর্বিত!’

ইয়াঙ্গুনের চীনা কারখানা এলাকায় দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফটোসাংবাদিক রয়টার্সকে বলেন, ‘মারাত্মক ভয়াবহ পরিস্থিতি, চোখের সামনে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে, আমি জীবনেও এই দৃশ্য ভুলতে পারব না।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থেকে দেশটিতে জান্তাবিরোধী তুমুল বিক্ষোভ চলছে। সেনা অভ্যুত্থানের অবসান এবং দেশটির নেত্রী অং সান সু চিসহ সামরিক বাহিনীর হাতে আটক রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে রাজপথে রয়েছে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি সাধারণ জনগণ