মেক্সিকোর সরকারি রিপোর্টে গরমিল, করোনায় মৃত্যু বাড়ল এক লাখ

মেক্সিকোয় মহামারি করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা সরকারিভাবে পূর্বে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে ৬০ শতাংশ বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে প্রকাশিত লাতিন আমেরিকার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখ ৮২ হাজার ৩০১ জন বলা হলেও সংশোধিত প্রতিবেদন বলছে, সে সময় দেশটিতে দুই লাখ ৯৪ হাজার ২৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এক লাখ ১১ হাজার ৯৮৬ জনের মৃত্যুর তথ্য ওই প্রতিবেদনে ছিল না। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, ১২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে তিন লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ। এই বাস্তবতায় করোনায় পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুর দেশ হয়ে গেল মেক্সিকো। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ পাঁচ লাখ ৪৯ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা। দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যু ধরা হয়েছিল ব্রাজিলে, সেখানে এ পর্যন্ত তিন লাখ ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য জানা গেছে।

করোনা মোকাবিলায় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। বিরোধী দল তাঁর বিরুদ্ধে মহামারি পরিস্থিতির ভয়াবহতা কমিয়ে দেখানো এবং টিকাদানে বিলম্বের অভিযোগ তুলে আসছিল। মহামারিকে হালকাভাবে নিয়ে মাস্ক না পরেই জনসমক্ষে চলাফেরা করতেন প্রেসিডেন্ট লোপেজ।

এ ছাড়া মেক্সিকোর সরকারি রিপোর্টে করোনায় মৃত্যুর যে সংখ্যা, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে আসছিলেন দেশটির বিশেষজ্ঞেরা।

মেক্সিকোয় এ পর্যন্ত মাত্র ৬১ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোকে ২৫ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিতে চেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ব্যবহার অনুমোদন করেনি, তবে তাদের হাতে কোম্পানিটির টিকা মজুত রয়েছে।

করোনাকালে ‘ব্যাপকহারে মৃত্যু’র রেকর্ড ও ডেথ সার্টিফিকেটের পর্যালোচনা করে এত বড় তথ্যের গরমিলের সন্ধান পেয়েছে মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।