মেজর পরিচয়ে প্রতারণা, চারজন গ্রেপ্তার

সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদে চাকরিসহ বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। চক্রের মূল হোতা সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয় দিয়ে এই প্রতারণা করতেন। এসময় জব্দ করা হয়েছে মেজর পদবীর র‌্যাঙ্ক ব্যাজ যুক্ত একটি সেনা পোশাক।

রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় করা একটি মামলায় নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- জহিরুল আলম, রবিউল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও উত্তম তালুকদার।

সিআইডি জানিয়েছে, তাদের কাছে অভিযোগ ছিল একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ চাকরিপ্রত্যার্শীদের চাকরির নামে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা অত্যন্ত ধূর্ত, উচ্চশিক্ষিত ও বাকপটু। কোচিং ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত থাকায় বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন, উত্তরপত্র, প্রবেশপত্র তৈরি ও সরবরাহ করে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে বিশ্বাস অর্জন করেছিল। সেটাকে পুঁজি করেই চলছিল তাদের প্রতারণা। চক্রের একজন সদস্য সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। মেজর পদবীর র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিধান করে পরস্পর যোগসাজশ করে সহজ সরল চাকরিপ্রার্থীদের সেনাবাহিনীর অফিস করণিক, মেসওয়েটার, স্টোরম্যান পদে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখাতেন। এরপর তাদেরকে চাকরির ইন্টারভিউ কার্ড দিয়ে রেস্টুরেন্টে সেনাবাহিনীর মেজর র‌্যাঙ্কের পোশাকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতেন। পরবর্তী সময়ে রেজাল্ট প্রকাশ করে চাকরির নিযোগপত্র দিতেন। সেই নিয়োগপত্র নিয়ে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে যোগদান করতে গেলে চাকরিপ্রত্যাশীরা বুঝতে পারত তাদের নিয়োগপত্র ভুয়া। চক্রটি এভাবে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছে।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, এই চক্রের সদস্যরা ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিতে পারত বলেও প্রতারণা করে আসছিল। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে- সেনাবাহিনীর মেজর পদবির র‌্যাঙ্ক ব্যাজসহ একসেট ইউনিফর্ম, ফিংগার প্রিন্ট মেশিন, ভুয়া নিয়োগপত্র, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ভিসা কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও ল্যাপটপ।