মোদির আসন্ন সফর দু’দেশের সম্পর্ককে নিয়ে যাবে নতুন মাত্রায়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফর গতানুগতিক নয়, এই সফর আবেগঘন ইতিহাসের প্রয়োজনে। তিনি আসছেন বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তির আয়োজনে, জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে শ্রদ্ধা জানাতে, আর দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূতির্কে স্মরণীয় করতে। সঙ্গে থাকছে এক অভিন্ন রক্তদানের ইতিহাস। এই সফর চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে, তবে দু’দেশের সম্পর্ককে নিয়ে যাবে নতুন মাত্রায়। এমনই মূল্যায়ন সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালি-উর-রহমানের। 

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস প্রায় অভিন্ন। আর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক জড়িয়ে আছে ইতিহাস, প্রকৃতি, খাদ্যাভাস, সংস্কৃতি ও সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্কের বাঁধনে।

বিশ্ব রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যতই মেরুকরণ হোক না কেন, দুই দেশ সব মোড়ে পরিক্ষিত বন্ধু। সুসময়-দু:সময়ে পাশে থেকেছে। বাংলাদেশের জন্মের সময় দুই দেশের বীর সন্তানদের রক্ত মিশেছে অভিন্ন প্রবাহে।

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তি পালন করছে বাংলাদেশ। সেই আয়োজনের সাথে মুজিববর্ষ বড় উপলক্ষ। আছে কূটনৈতিক সম্পর্কের  ৫০ বছর পূর্তি। এমন সব আবেগঘন আয়োজনেই যোগ দিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালি-উর-রহমান বলেন, একটি ব্যাপারে কেউ দ্বিমত হবে না, আমাদের স্বাধীনতায় ভারতের যে সহযোগিতা, ৬ থেকে ১০ হাজার সৈন্য এবং কর্মকর্তা বাংলার মাটিতে জীবন দিয়েছে। কাজেই ভারতের সেই সেনাদের রক্তের সাথে আমাদের সেনাদের রক্ত একাকার হয়ে গেছে। বর্তমান প্রজন্ম এবং আগামী প্রজন্ম তারা যেন ভুলে না যায়, ভারত একটি বিশেষ রাষ্ট্র।

নরেন্দ্র মোদির আসন্ন সফর কূটনৈতিক নয়, ইতিহাসের তাগিদের সফর। তবে আলোচনা হবে বিশ্ব রাজনীতি থেকে সীমান্ত সমস্যা পর্যন্ত। অনেক দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধান আসবে, এমন আশাও করছে দু’দেশ। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে এক ইতিহাসের কথা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালি-উর-রহমান বলেন, মোদি আসছেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে তার অর্ঘ্য নিবেদন করতে। একটি জাতির পিতা যেরকম মহাত্মা আমাদের পিতা, তিনি বাংলাদেশের পিতা, তিনি সবার পিতা। নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন বললো, আমরা বঙ্গবন্ধু কেন বলি শুধু তার যে ইনফ্লুয়েন্সটা হয়েছে সেটা ইতিহাসে লেখা হয়নি, হবে আস্তে আস্তে। বঙ্গবন্ধু হলেন বিশ্ববন্ধু।

এই আয়োজেন দুই দেশের শীর্ষনেতা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক মুক্তির কৌশল খুঁজবেন, জানান এই সাবেক রাষ্ট্রদূত।