রমজানের যে আমলে গুনাহ মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি

মাহে রমজান

আল্লাহতায়ালার অপার কৃপায় পবিত্র রমজানের রহমতের দশকের রোজা রাখার তাওফিক পাচ্ছি, আলহামদুলিল্লাহ। এ জন্য আল্লাহপাকের দরবারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমরা জানি, রমজান আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভ করার বিশেষ এক মাধ্যম।

এছাড়া পবিত্র মাহে রমজানে প্রত্যেক পুণ্যকাজের প্রতিদান আল্লাহ অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়ে থাকেন। যেভাবে মহানবী (সা.) বলেছেন: ‘তোমাদের আল্লাহ বলেছেন, প্রত্যেক নেকীর প্রতিদান দশ গুণ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত আর রোজার ইবাদত বিশেষ ভাবে আমার জন্য আর আমি স্বয়ং তার প্রতিদান দিব অথবা আমি স্বয়ং এর প্রতিদান হব’ (তিরমিজি, আবওয়াবুস সাওম)।

এরফলে মুমিন-মুত্তাকিরা এ দিনগুলোতে অনেক বেশি পুণ্যকাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। রমজানে ইফতার একটি বিশেষ আমল।

যারা মুমিন তারা শুধু নিজেরাই ইফতারের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকে না বরং গরীব অসহায়দের কথাও মাথায় রেখে তাদেরকে ইফতারে অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রোজাদারকে ইফতার করানো অনেক ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদতও বটে।

সম্প্রতি ইফতারের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে আমার অনেক ভালো লেগেছে। দেখা যাচ্ছে দেশের কোন একটি জেলায় গরীবদের জন্য সুন্দর করে ইফতার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কারো সাথে কোন কথা বলার প্রয়োজন নেই, যার চাহিদা রয়েছে সে এসে ইফতার নিয়ে যাচ্ছেন। কতই না মহৎ আয়োজন। এ ধরনের আয়োজন যারা করেছেন তাদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল দোয়া ও শুভকামনা।

গাছে যখন ফুল ফুটে তখন অনেক মৌমাছিকে দেখা যায় ফুল থেকে রস সংগ্রহ করে মৌচাকে মধু তৈরী করতে। এটি মৌমাছির নিত্যদিনের কাজ। যেখানেই ফুলের সন্ধান পায় সেখানেই তারা ছুটে যায়।

অনুরূপভাবে মুমিন মুত্তাকিরাও যেখানে কল্যাণকর কিছু পায় সেখান থেকে তা সংগ্রহ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। ইফতারের এ আয়োজনও তেমনি কল্যাণ সংগ্রহের একটি মাধ্যম।

রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে এবং রোজাদারের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াব সে লাভ করবে। তবে ওই রোজাদারের সওয়াব কম করা হবে না।’

আরও পড়ুন…রোজা ভঙ্গ করার ভয়াবহ শাস্তি

সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)! আমাদের অনেকেরই রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘পানিমিশ্রিত এক পেয়ালা দুধ বা একটি খেজুর অথবা এক ঢোঁক পানি দ্বারাও যদি কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তাতেও সেই পরিমাণ সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তিসহকারে আহার করাবে, আল্লাহতায়ালা তাকে আমার হাউসে কাউসার থেকে এমন পানীয় পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত তৃষ্ণার্ত হবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ)।

তাই ইফতার শুধু নিজেই করবনা বরং গরীব অসহায়দের জন্যও ব্যবস্থা করব। আমরা যেখানে বসবাস করি, এর আশপাশে এমন অনেক রোজাদার পাওয়া যাবে যাদের কাছে ইফতারের জন্য কিছুই নেই।

আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা যদি তাদের কাছে ইফতার পৌঁছাই বা ব্যবস্থা করি তাহলে দেখবেন আল্লাহতায়ালা আমাদের রিজিকে প্রভূত বরকত দিচ্ছেন।

তাই আসুন, অপরকে ইফতার করানোর ফজিলতের প্রতি খেয়াল রেখে এ কাজে সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করি। হে দয়াময় আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে রমজানের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত কর না, আমিন।