রাজধানীতে ৭ ফার্মেসির সবগুলোতেই মেয়াদোত্তীর্ণ-অনুমোদনহীন ওষুধ

জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে অনিয়ম যেন থামছেই না। রাজধানীর উত্তরায় মাত্র ৭টি ফার্মেসিতে অভিযানে মিলেছে ক্যান্সার, হৃদরোগের মতো জটিল রোগের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। লাইসেন্স না থাকায় সিলগালা করা হয়েছে একটি ফার্মেসি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

থরে থরে সাজানো ওষুধ। সাধারণের ধারণার বাইরে কোনটি আসল আর কোনটা নকল। রাজধানীতে মেয়াদোত্তীর্ণ আর ভেজাল ওষুধ বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শনিবার (১৪ নভেম্বর) উত্তরার কয়েকটি ফার্মেসীতে অভিযান চালায় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

অভিযান চলার সময়ই প্রেসক্রিপশনের ভুল ওষুধ দেয়ায় ফেরত দিতে আসে একজন। নিয়ম থাকলেও দোকানটিতে একজনও ফার্মাসিস্ট পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীরা বলেন, আমি ওষুধ নিয়েছিলাম এখান থেকে। ডাক্তার বললো এটা ভুল ওষুধ। তাই পরিবর্তন করতে আসলাম। 

এমন অবস্থা অভিযান চালানো ৭টি ফার্মেসির সব’কটিতেই। অভিযানে পাওয়া যায় পাওয়া বিপুল পরিমাণ মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। এসবের মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার, হৃদরোগের মতো জটিল অসুখ সারানোর ওষুধ। এছাড়া অনুমোদনহীন ওষুধও মিলেছে। জীবরক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে এমন ব্যবসা চালানোর পরও বিকার নেই অভিযুক্তদের।

ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা সাধারণত ভারতের ওষুধ রাখি না। বাইরে থেকে লোক এসে আমাদের জিজ্ঞাসা করে এই ওষুধগুলো আমাদের লাগবে কিনা। সেভাবেই আমাদের নেয়া হয়। তাদের সাথে যোগাযোগের কোনো নাম্বার আমাদের কাছে নেই। 

অভিযানে সিলগালা করা হয় একটি প্রতিষ্ঠান। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ডিজি মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলছেন, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা তাদের কাছে জানতে চাইবো বিস্তারিত, তারা আমাদের এটার উত্তর দিতে হবে। সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। 

এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে জানিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।