রানি এলিজাবেথের স্বামী প্রিন্স ফিলিপকে শেষবিদায় জানাতে যুক্তরাজ্যজুড়ে গানস্যালুটের ঘোষণা

প্রিন্স ফিলিপ

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে বিশ্বনেতারা শোক জানিয়েছেন। ৯৯ বছর বয়সে মারা গেছেন প্রিন্স ফিলিপ। ৭৩ বছর সংসার করে গড়েছেন ইতিহাসও। ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দিন, ৭৩ বছর রয়্যাল কনসোর্ট ছিলেন প্রিন্স ফিলিপ

প্রিয় মানুষকে শেষ বিদায় জানাতে যুক্তরাজ্যজুড়ে ফের গানস্যালুট দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন, এডিনবরা, কার্ডিফ ও বেলফাস্ট শহরে, জিব্রাল্টার প্রণালী এবং সমুদ্রে ব্রিটিশ রণতরীগুলোতে গানস্যালুট দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেলা ১২টার পর থেকে প্রতি মিনিটে এক রাউন্ড করে গুলি ছোড়া হবে।

এর আগে ১৯০১ সালে ব্রিটিশ রানি ভিক্টোরিয়া ও ১৯৬৫ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিলের মৃত্যুতে এই ধরনের গানস্যালুট দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন…রানি এলিজাবেথের স্বামী প্রিন্স ফিলিপ মারা গেছেন

গতকাল শুক্রবার উইন্ডসর ক্যাসেলে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যু হয়। ঘোষণা এসেছে, উইন্ডসরের সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে তাঁকে সমাহিত করা হবে। তবে কোন দিন তাঁকে সমাহিত করা হবে, তা জানানো হয়নি। বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মহামান্য রানি খুবই দুঃখের সঙ্গে তাঁর প্রিয় স্বামী প্রিন্স ফিলিপ, ডিউক অফ এডিনবরার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেছেন। ডিউক, উইন্ডসর কাসেলে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’

প্রিন্স ফিলিপের শেষ বিদায়ের আয়োজনে কী হচ্ছে, তা জানতে বিশ্বজুড়েই তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

লন্ডনের পিকাডেলি সার্কাসে প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুর পরপরই হাস্যোজ্জ্বল ছবি দিয়ে মৃত্যুর ঘোষণা আসে। বাকিংহাম প্যালেসে সাধারণের ভিড় দেখা গেছে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অনেকে এসেছেন ফুল নিয়ে। বার্কশায়ারের উইনসর ক্যাসেলের সামনেও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করতে দেখা গেছে ব্রিটিশদের অনেককে।

প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুর পরপরই যুক্তরাজ্যের সরকারি সব ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। এবং তাঁর শেষকৃত্যের পরের দিন সকাল পর্যন্ত সেটি অর্ধনমিত থাকবে।

লিভারপুলের রেসকোর্স ময়দানে অশ্বারোহীরাও নিরবতা পালন করে জানিয়েছেন শেষ শ্রদ্ধা। ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবের গির্জা থেকে ১ মিনিট পরপর ৯৯ বার ঘণ্টা ধ্বনি বাজানো হয়েছে।

বিশ্বনেতারাও শোক জানিয়েছে প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনসহ বিশ্বের সব নেতারাই শোকবার্তা আর টুইট করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রিন্স ফিলিপ শ্রুতিমধুর মানুষ ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন।