লকডাউনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত : প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি

লকডাউনের সময় উচ্চ আদালতের বেঞ্চ বাড়ানো ও বন্ধের বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন

আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগে মামলার শুনানির একপর্যায়ে এ কথা বলেন তিনি।

আজ আপিল বিভাগের একটি মামলার শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, দেশে ভার্চুয়াল আইন হওয়ায় কোর্ট চালানো যাচ্ছে। না হলে কোর্ট বন্ধ করে দিতে হতো। এখনও ভারত-পাকিস্তানে এ আইন হয়নি। পাকিস্তানে এখনও ফিজিক্যাল কোর্ট হয়।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা দৈনিক পরিস্থিতি দেখছি, পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতির আলোকে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এ সময় তিনি করোনা পরিস্থিতিতে আইনজীবীসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে হাইকোর্টের চারটি বেঞ্চ চালু রাখা হয়েছে। বেঞ্চ বাড়ানোর দাবিতে আইনজীবীদের একাংশ মানববন্ধন ও মিছিল করে আসছেন।

এ দিকে গত ১১ এপ্রিল দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জামিন আবেদন ও অতীব জরুরি ফৌজদারি বিষয় নিষ্পত্তি করতে ভার্চুয়ালি সারা দেশে নিম্ন আদালত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া হাইকোর্টের চারটি বেঞ্চ ও সপ্তাহে তিন দিন আপিল বিভাগ ভার্চুয়ালি চালু থাকবে।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোঃ বদরুল আলম ভূঞা স্বাক্ষরিত এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টে প্রতি রোব, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সীমিত পরিসরে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মোঃ গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নিম্ন আদালত চালু রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে নিম্ন আদালতে বিচারকাজ বন্ধ ছিল। তবে জরুরি বিষয় শুনানির জন্য এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট খোলা রাখা হয়েছিল। শুধু প্রতিদিনকার গ্রেপ্তার করা আসামিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খোলা ছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজ, নারীও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, শিশু আদালতের বিচারক এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা- ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ এবং হাইকোর্ট কর্তৃক জারিকৃত এতদসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণপূর্বক শুধু জামিন ও অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তসমূহ নিষ্পত্তি করার উদ্দেশে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘হাইকোর্ট বিভাগ হতে দেওয়া জামিন আদেশের ক্ষেত্রে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জামিননামা দাখিল করতে হবে। এ ছাড়াও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন।’