লকডাউনে বয়স্কদের জীবনযাপন

করোনাকালের অনিশ্চিত অস্থিরতা সব বয়সীদের উপরই প্রভাব রাখছে। তবে লকডাউনের সময়গুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বয়স্কদের উপর। বিষণ্ন সময়ে শরীর ও মন দুই-ই সুস্থ রাখতে হবে। প্রয়োজন নতুন ভাবনাচিন্তা আর দৈনন্দিন রুটিন খানিক পাল্টে নেওয়া।

ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। সমস্যা যেমন আছে তেমনি সমাধানটাও রয়েছে আপনার হাতের মুঠোয়। সহজ করে বললে চেনা সমস্যার নতুন সমাধান। লকডাউনে আকস্মিক জীবনযাত্রায় বয়স্কদের শারীরিক ও মানসিক কী কী সমস্যা হতে পারে চলুন জেনে নেওয়া যাক-

শারীরিক সমস্যা: শারীরিক যে সমস্যাগুলো হয় তা মূলত হাঁটা চলা, ব্যায়াম ইত্যাদি না হওয়ার কারণে। এছাড়া, জড়তা বা রিজিডিটি, হজমের সমস্যা ও হাইপার অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য, দুর্বলতা, রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত, সুগার বেড়ে যাওয়া, ঘুম বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, গা হাত পায়ের ব্যথা, গরমের ঘামাচি ও চুলকানি হওয়া, পার্কিনসন্স বা নিউরো সমস্যাগুলো বৃদ্ধি পায়।

মানসিক সমস্যা: দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মে অনীহা, সবসময় খিটখিটে মেজাজ, মানসিক উদ্বেগ ও অস্থিরতা, অবসন্নতা ও অবসাদ এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজেকে অতিরিক্ত জাহির করা।

শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সমাধান: ১.প্রথমেই লকডাউনে মনের দরজা লক না করে খুলে দিন। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখুন। করোনা সম্পর্কিত সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলুন। কিন্তু করোনা সংক্রান্ত খবরের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখবেন না। সব সময় ভাবুন সঙ্কট কেটে যাবে। আঁধার শেষে আলো আসবেই, শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

২.পুরোনো দিনের কথা, বিশেষ করে ছোটবেলার দিনগুলো মনে করার চেষ্টা করুন। ছেলেবেলার বন্ধুদের নাম, চেহারা মনে করার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে তাদের খোঁজখবর নিন। না পারলে ছেলেবেলার মজার মজার ঘটনাগুলো পরিবারের সবার সাথে শেয়ার করুন।

৩.প্রতিবেলায় রান্না হওয়ার পর তাজা ও গরম খাবার খান। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। গরম বিবেচনা করে অন্য সময়ের থেকে ৩০০ মিলি বেশি পানি পান করবেন। তবে ঠাণ্ডা পানি পানে বিরত থাকুন। মৌসুমী ফল খাবেন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে। কারণ, অধিকাংশ ফলই খুব মিষ্টি না হয় খুব টক।

৪.যোগ ব্যায়াম করুন। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, সহজ হাঁটুর ব্যায়াম এগুলো করতে পারেন। বাগানে বা ছাদে সকাল-বিকাল হাঁটার অভ্যাস করুন। গুগুল বা ইউটিউব দেখে দেখে মুভমেন্ট থেরাপি অনুশীলন করতে পারেন লকডাউনের সময়টাতে।

৫.শখের জিনিস, যেমন বই পড়া, আঁকা, লেখালেখি, সেলাই, গান, নাচ এগুলোতে আরো মনোনিবেশ করুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। পারলে নতুন নতুন রেসিপি রান্না করুন। সেই খাবার সবাই মিলে উপভোগ করুন। পরিবারের ছোটদের থেকে ইমেল, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ইত্যাদি করতে শিখে নিন। যার মাধ্যমে বন্ধু ও আত্মীয় স্বজনের খোঁজ খবর নিতে পারেন।

৬. যদি বয়স্ক কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কারণে প্রতিদিন তার নিত্য ব্যবহৃত জিনিসকে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।