লকডাউন সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনা

প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাস ব্যধিতে ধুঁকছে সারা বিশ্ব। এ পর্যন্ত মারা গিয়েছে প্রায় ৪০ লাখ লোক। এ পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার প্রভাব কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। মহামারি কোভিড-১৯-এর তাণ্ডবে অনেক দেশে চলছে লকডাউন। অনেকেই মেনে চলছেন আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন পদ্ধতি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে—যাতে করে প্রাণঘাতী এ ব্যাধিতে নতুন করে আর কেউ আক্রান্ত না হয়। প্রয়োজনে বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলাম এসব ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। অনেকে লকডাউন, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন—এসব পদ্ধতিকে আল্লাহর ভয় ও ভরসার প্রতিবন্ধক হিসেবে মনে করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে ইসলামের আলোকে এগুলোকে আল্লাহবিরোধী হিসেবে ভাবার কোনো সুযোগ নেই। কেননা, আল্লাহ তাআলার হুকুম ও ইচ্ছা ছাড়া যেমন কিছু হয় না, আবার প্রতিটি ক্ষেত্রে তার সুন্দর ব্যবস্থাপনা মেনে নিজেদের পরিচালনা করা জরুরি।

সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এ ধরনের কাজের ইঙ্গিত রয়েছে। হজরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর খেলাফতের সময় ফিলিস্তিনে ‘আমওয়াস’ নামক মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে মিশরবিজেতা সাহাবি হজরত আমর ইবনুল আস (রা) সেখানে উপস্থিত মুসলমানদের উদ্দেশে এক ভাষণ দেন। তিনি তার ভাষণে বলেন—হে লোকসকল! যখন এ ধরনের মহামারি দেখা দেয়, তখন তা আগুনের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তিনি উপস্থিত সবাইকে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পাহাড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তাদের প্রতি তিনি এ মর্মে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেন যে, কেউ কারো সঙ্গে মিশতে পারবে না। অতঃপর তারা পৃথক পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে দীর্ঘদিন পাহাড়ে অবস্থান করেন। আর আক্রান্তদের অনেকে শাহাদাত বরণ করেন। একপর্যায়ে আল্লাহ মহামারি তুলে নিলে সাহাবি আমর ইবনুল আস জীবিতদের নিয়ে সুস্থ শরীরে শহরে ফিরে আসেন। (তারিখে দিমাশ্ক)।

লকডাউন পরিস্থিতি সম্পর্কেও হাদিসে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। বুখারির এক বর্ণনায় এসেছে, নবি করিম (স) বলেন, ‘তোমরা যখন কোনো এলাকায় মহামারি প্লেগের বিস্তারের কথা শোনো, তখন সেখানে প্রবেশ কোরো না। আর যদি কোনো এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোমরা সেখানে থাকো, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়েও যেয়ো না।’

উপরিউক্ত ঘটনা ও হাদিসের বর্ণনা থেকে আমরা বুঝতে পারি—লকডাউন ব্যবস্থা, কোয়ারেন্টাইন কিংবা আইসোলেশনে থাকা কোনোটিই ইসলামের আলোকে নিষেধ নয়, বরং মহামারি আক্রান্ত অঞ্চলের লোকদের জন্য ইসলাম এ পদ্ধতিগুলো গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিটি অবস্থা মোকাবিলা করার তাওফিক দান করুন। আমিন!