শরীয়তপুরে প্রথম শ্রেনীর পৌরসভার বেশিরভাগ সড়কই খানাখন্দে ভরা

মো. মহসিন রেজা”শরীয়তপুর প্রতিনিধি।। শরীয়তপুর সদর পৌরসভাটি প্রথম শ্রেনীর পৌরসভার খেতাব অর্জন করেছে এক যুগের বেশি সময় ধরে, এই পৌরসভায় বিভিন্ন ধরনের প্রায় লক্ষাধীক মানুষের বসবাস। সেখানে ভিআইপি সড়কসহ পৌরসভার বেশিরভাগ সড়কগুলো বছরের পর বছর ধরে ভেঙ্গে চুরে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে তৈরী হয়েছে মৃত্যু ফাঁদ। শরীয়তপুর সদর পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। এর মধ্যে আবার বছরের পর বছর ধরে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে সুরকি মাটির স্তূপ যার নিচে রয়েছে ড্রেজারের পাইপ, নানান ধরনের জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে পৌর শহরের সড়ক গুলোতে। সার্কিট হাউসের দক্ষিন দিকে ৭ নং ওয়ার্ডে পাসপোর্ট অফিসের সামনের এলাকাটি অফিস পাড়া হওয়ায় বেশি মানুষের চলাচল ও এ সড়কটি দিয়ে দুই তিনটি এলাকার কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। তাছাড়া এলাকাটিতে সরকারী অফিস, কোয়াটার ও ভাড়া বাসা থাকায় এখানে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের অফিসার, প্রবাসী, ব্যবসায়ী,সেবা প্রত্যাশীসহ স্থানীয়দের কোর্ট এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির প্রতি নজরই নেই পৌর নগর পিতার। এ রাস্তাটি দিয়ে হুগলী যেতে কয়েক জায়গায় ভেঙ্গে অনেক বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি দিয়ে হুগলী স্কুল গিয়ে উত্তর দিক দিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের স্থায়ী কার্যালয় রোড এবং ডান দিক দিয়ে শরীয়তপুর নতুন শহর হয়ে, সালাম মাদবরের বাড়ির সামনে দিয়ে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোডের রাস্তায় এসে মিলেছে, এ রাস্তাগুলো এতোটাই খানা খন্দ হয়ে আছে ছোট যানবাহন যেতেই চায়না, ড্রাইভারকে তেল মাখলে ২০ টাকার ভাড়া ৫০টাকা দিলে যেতে রাজি হয়। এছাড়া ৮ নং ওয়ার্ডের ধানুকা বাজার থেকে রাজগঞ্জ বাজার ও স্বর্নঘোষ পর্যন্ত ভেঙ্গেচুরে একই হাল মরন ফাঁদ! পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড দাসাত্তা চৌরাস্তা থেকে সড়কটি এলজিইডি সড়ক পর্যন্ত হেঁটে চলার অযোগ্য, ইজিবাইক চালকরা মাঝে মাঝে ইট ভাটা থেকে সুরকি কিনে এনে খানাখন্দ ভরাট করে যাত্রীদের নিয়ে জীবন বাজী রেখে চলছেন। এদিকে পাকার মাথা ও চৌরঙ্গী থেকে পালং বাজারের ভেতর দিয়ে শেষ মাথা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার সড়কের মারাত্মক অবস্থা হয়ে পড়েছে। এবছর পালং বাজারে ঈদুল ফিতরের কেনাকাটা করতে গিয়ে নোংরা আবর্জনা যুক্ত পানি দিয়ে হেটেই কেনাকাটা করতে হয়েছে ক্রেতাদের। এজন্য ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে পালং বাজারের রাস্তাটি আরো প্রসস্ত ও পয়ঃনিস্কাশনের ভালো ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিক ৭ নং ওয়ার্ডের মনোহর বাজার হরিসভা থেকে দক্ষিণ মধ্য পাড়া গ্রামের দুইটি রাস্তার দশাও খুবই বেহাল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পশ্চিম পাশ দিয়ে ৯ নং ওয়ার্ডের বড়াইল দিয়ে নদীর পাড় পর্যন্ত ভেঙেচুরে পড়ে আছে দীর্ঘ দিন ধরে। শরীয়তপুর পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের বেশির ভাগ সড়কই বছরের পর বছর ধরে চলাচলের জন্য বিপদজনক হয়ে আছে। এ সড়কগুলো বছর না যেতেই ভেঙ্গে যাওয়ার কারণ হিসেবে, দূর্নীতির অভিযোগের তীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও ইঞ্জিনিয়ারদের দিকে। তাদের দূর্নীতির জন্যই মজবুত টেকসই কাজ না হওয়ায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পৌরসভার সড়কগুলো। সড়কগুলো ব্যবহারকারী স্থানীয় পৌর নাগরিকসহ পৌরসভার আওতায় বসবাসরত ভাঙ্গা সড়ক ব্যবহারকারী সকলে পৌর মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের প্রতি দ্রত ভাঙ্গাচোরা এ সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। খানাখন্দে ভরা পৌর সড়ক সংস্কারের বিষয়ে মেয়র মোঃ পারভেজ রহমান জানান, আমরা নতুন কিছু কাজ ধরেছি, আর ভাঙ্গাচোরা ওগুলোর ব্যপারে আপনি অফিসে এসে কথা বইলেন।